ঘোরার প্ল্যানে বড় ধাক্কা! জ্বালানির আকালে লাগামছাড়া হতে পারে বিমানের ভাড়া

সামনেই ছুটির মরসুম, আর এরই মাঝে বিমানে যাতায়াতকারীদের জন্য আসতে চলেছে চরম দুঃসংবাদ। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ডামাডোল এবং জ্বালানি ঘাটতির কারণে একধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে পারে বিমানের টিকিটের দাম। বিখ্যাত কনসাল্টিং ফার্ম ম্যাকিঞ্জি (McKinsey) সম্প্রতি এই বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে।

ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারণগুলি কী কী?

  • জ্বালানির ঘাটতি: বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ বিমানের জ্বালানি (Aviation Fuel) আসে এশীয় ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। কিন্তু বর্তমানে এই রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় জ্বালানির চরম আকাল দেখা দিয়েছে।
  • টিকিটের ওপর সরাসরি প্রভাব: একটি বিমানের টিকিটের মূল্যের প্রায় ৩০ শতাংশই নির্ভর করে জ্বালানি খরচের ওপর। ম্যাকিঞ্জি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, জ্বালানির দাম যদি দ্বিগুণ হয়, তবে যাত্রীদের টিকিটের দাম নিমেষেই ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
  • ‘ক্র্যাক স্প্রেড’ বৃদ্ধি: অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) এবং তা থেকে তৈরি হওয়া ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির দামের পার্থক্যকে বলা হয় ‘ক্র্যাক স্প্রেড’। আগে প্রতি ব্যারেলে এটি ২০ ডলার বা তার নীচে থাকলেও, ২০২৬ সালের মধ্যে তা গড়ে ৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংকট মেটানোর উপায় কী?

ম্যাকিঞ্জি জানিয়েছে, সংকটের আগে থেকেই বিশ্বের বেশিরভাগ রিফাইনারি তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছিল। তাই রাতারাতি উৎপাদন বাড়ানো কার্যত আসাম্ভব। আপাতত পুরনো মজুত ভাণ্ডার থেকে জোগান দিয়ে এই বিপুল ঘাটতি মেটানোর মরিয়া চেষ্টা চলছে।

আশার আলো কতটা?

হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে যদি তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল বাড়ে, তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বেশি লাভের আশায় কিছু রিফাইনারিও উৎপাদন বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশ এখন নিজেদের তেলের রিজার্ভ বাড়াতে ব্যস্ত। তাই যতক্ষণ না গোটা বিশ্বের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ জ্বালানির চড়া দাম থেকে যাত্রীদের স্বস্তি পাওয়ার বিশেষ কোনও আশা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *