তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে ভয়াবহ বিপর্যয়, তদন্তে নামছে প্রশাসন!

কলকাতার তারাতলায় বন্দরের জমিতে একটি নির্মীয়মাণ চায়ের গুদামের তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১২ থেকে ১৮ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়েই উদ্ধারকাজে গতি আনতে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিকেলেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সেখানে উপস্থিত মন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ শুরু করেছেন। আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত বের করে আনতে আধুনিক গ্যাসকাটার ও ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নবান্নের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং কয়েকটি জরুরি নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে ওই গুদামের সমস্ত নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই গুদামটি তৈরি করা হচ্ছিল। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ‘কাটমানি’র বিনিময়ে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই এই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার মানুষ। এই ঘটনার জেরে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তৃণমূল জমানায় পাস হওয়া সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান এখন প্রশাসনের কড়া স্ক্যানারে রয়েছে। এই দুর্ঘটনার প্রভাবে আগামীদিনে বন্দরের জমি এবং শহরের অন্যান্য নির্মীয়মাণ বহুতলের বৈধতা ও সুরক্ষাবিধি নিয়ে বড়সড় তদন্ত শুরু হতে চলেছে, যা আবাসন ও নির্মাণ খাতে নিয়মনীতি আরও কঠোর করতে পারে।