শত কোটির বেনামি সম্পত্তির অভিযোগ! দেবরাজের জামিন খারিজ হলেও স্বস্তিতে অদিতি

আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তি এবং নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগে বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর একক বেঞ্চ তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আর কোনও আইনি বাধা রইল না। তবে এই একই মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সী। কোলে চার মাসের শিশু সন্তান থাকায় মানবিকতার খাতিরে আদালত অদিতির আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে।
বেনামি সম্পত্তির পাহাড় ও বিস্ফোরক অভিযোগ
আদালতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার এই রাজনীতিক দম্পতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। রাজ্যের দাবি, নির্বাচনের সময় নিজেদের প্রকৃত সম্পত্তির পরিমাণ গোপন করতে অন্তত একশো কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়দের নামে তড়িঘড়ি হস্তান্তর করেছেন তাঁরা। তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে এই বিপুল প্রতিপত্তি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এমনকি, ভোটের ঠিক আগে কালিম্পঙের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা রহস্যজনকভাবে সরিয়ে ফেলার চাঞ্চল্যকর দাবিও আদালতে জানিয়েছে রাজ্য। এর আগে মে মাসে একটি মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে গত ১৯ জুন পর্যন্ত এই দম্পতির গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ ছিল।
গ্রেফতারির খাঁড়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
হাইপ্রোফাইল এই দম্পতির পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তবে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দেবরাজের ক্ষেত্রে আইনি রক্ষাকবচ আর বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, অদিতি মুন্সীকে জামিন দেওয়া হলেও তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। দেবরাজ চক্রবর্তীর আইনি রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার এই নির্দেশ তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ এখন এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগের গভীরে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে, যা শাসকদলের অস্বস্তি আরও বাড়াতে পারে।