পাঁচতলা গুদাম ভেঙে তারাতলায় মহাবিপর্যয়, উদ্ধারকাজে সেনা ও এনডিআরএফ

পাঁচতলা গুদাম ভেঙে তারাতলায় মহাবিপর্যয়, উদ্ধারকাজে সেনা ও এনডিআরএফ

কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজ এলাকায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল একটি নির্মীয়মাণ পাঁচতলা গুদামের ছাদ ও ভারী লোহার কাঠামো। বুধবার দুপুরের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছেন বহু শ্রমিক। শেষ খবর অনুযায়ী, সেনা, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় ১৬ জন জীবিত শ্রমিককে উদ্ধার করে গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন, ফলে এখনও অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে।

সকাল থেকেই দুলছিল কাঠামো, কারিগরি ত্রুটিতেই বিপর্যয়

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নেওয়া জমিতে একটি বড় চা প্রস্তুতকারক সংস্থার গুদাম তৈরির কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বুধবার সকাল থেকেই এই পাঁচতলা বহুতলের মূল লোহার কাঠামোটি অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনকভাবে দুলছিল। সেই গলদ খতিয়ে দেখতে দুপুরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাঠামোর নীচে জড়ো হতেই বিকট শব্দে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে ভারী বিম ও ছাদ। প্রাথমিক বিশ্লেষণে নির্মাণের ক্ষেত্রে বড়সড় কারিগরি ত্রুটি ও কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টিই সামনে আসছে। আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের সেখানে পাঠানোয় গাফিলতির প্রশ্নটিও এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনা শহরের অন্যান্য নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

উদ্ধারকাজে মরিয়া প্রশাসন ও নবান্নের নজরদারি

টন টন ওজনের লোহার চাঁই ও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া বাকি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছতে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার বিম কাটা হচ্ছে এবং জেসিবি ব্যবহার করে স্তূপ সরানোর কাজ চলছে নিরলসভাবে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে দুর্ঘটনাস্থলে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। গোটা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নজর রাখছে নবান্ন। রাজ্য সরকারের তরফে চালু করা হয়েছে বিশেষ আপৎকালীন কন্ট্রোল রুম। আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধার্থে নবান্ন থেকে ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩ ২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩ ২২৫৩৫১৮৫— এই চারটি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *