বিয়ের কার্ডে বর-কনের জন্মতারিখ বাধ্যতামূলক

বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এবার এক অভিনব ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে মহারাষ্ট্র সরকার। এবার থেকে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে হবু বর ও কনের আসল জন্মতারিখ ছাপানো বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। রাজ্যের মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অদিতি তটকরে বিধানসভায় এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্যে বাল্যবিবাহের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
রাজস্থান মডেল ও আইনি কড়াকড়ি
এই নতুন নিয়ম চালুর ক্ষেত্রে রাজস্থান সরকারের মডেল অনুসরণ করতে চাইছে মহারাষ্ট্র প্রশাসন। রাজস্থানে ইতিমধ্যেই বিয়ের কার্ডে জন্মতারিখ উল্লেখ করার চল রয়েছে, যার সুফলও মিলেছে। এই মডেলের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে রাজস্থান সরকারকে চিঠিও দিয়েছে মহারাষ্ট্র। সরকারের দাবি, শুধু নাবালিকার পরিবার নয়, এই বেআইনি বিয়েতে মদত দেওয়া পুরোহিত, মৌলবি বা ব্যান্ড পার্টির বিরুদ্ধেও এবার থেকে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রশাসনের এই সক্রিয় নজরদারির জেরেই রাজ্যে বাল্যবিবাহের হার আগের ২১.৯ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ১৯.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্থানান্তরের বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষত মারাঠাওয়াড়া বা বিড় জেলার মতো অঞ্চল থেকে যখন পরিবারগুলি আখের খেতে কাজের জন্য পাড়ি দেয়, তখন মেয়েদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তড়িঘড়ি কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের সচেতন করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য আবাসিক হোম ও কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিয়ের কার্ডে জন্মতারিখ ছাপানোর নিয়মটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে, গ্রামীণ স্তরে জাল নথি ব্যবহার করে বা লুকিয়ে নাবালিকা বিয়ের পথ একপ্রকার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।