রামমন্দিরে ৩৫০০ কোটির আর্থিক গরমিল, ২০২০ সালের অডিটে মিলেছিল সতর্কবার্তা

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব না মেলার অভিযোগে বর্তমানে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। তবে এই বিপুল আর্থিক গরমিলের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগেই। জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর একটি অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে আর্থিক ব্যবস্থাপনার একাধিক গুরুতর ত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। সেই সময় অডিটররা ট্রাস্টের কার্যকলাপে পেশাদারিত্বের অভাব, সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন বা ‘এসওপি’ (SOP) না থাকা এবং আধুনিক ডেটাবেসের অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করলেও তা কার্যত উপেক্ষা করা হয়।
হিসাবহীন অনুদান ও উপেক্ষিত সতর্কবার্তা
গত পাঁচ বছরে রামমন্দিরের তহবিলে শুধুমাত্র নগদ অনুদান হিসেবেই প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এর পাশাপাশি সিন্দুকে জমা হয়েছে সোনা, রুপো ও হিরের গয়নার মতো বিপুল মূল্যবান সামগ্রী। ২০২০ সালের অডিট রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, এই সম্পদের হিসাব রাখার জন্য কোনও ‘সেকেন্ড’ বা ‘থার্ড লেভেল’ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা নেই। এর ফলে তথ্য বিকৃতি ও আর্থিক অনিয়মের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি ট্রাস্টে দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য কোনও পূর্ণাঙ্গ মানবসম্পদ (HR) বিভাগ, ব্যাঙ্কের হিসাব মেলানোর সঠিক পরিকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তার সুস্পষ্ট নীতি ছিল না। অনুদান হিসেবে পাওয়া গয়নাগাটির জন্য পৃথক ‘স্টক রেজিস্টার’ তৈরির মতো অত্যন্ত জরুরি সুপারিশও সেসময় গ্রাহ্য করা হয়নি বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক সতর্কবার্তায় গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই আজ ট্রাস্টকে এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হিসাবের বিস্তর গরমিল সামনে আসতেই উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। সিট ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তাদের প্রাথমিক রিপোর্টও জমা দিয়েছে। রামমন্দির ভারতের কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও গভীর বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে এমন আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সঠিক সময়ে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না করার এই অবহেলা আগামী দিনে ট্রাস্টের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।