তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়ে নাটকীয় মোড়, মধ্যরাতে আটক মালিক!

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের বিশাল লোহার ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় নাটকীয়ভাবে আটক হলেন গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা। বুধবার মধ্যরাতে জেমস লং সরণির একটি বিলাসবহুল আবাসন থেকে পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১০-১২ জনের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তদন্তে সিট গঠন ও ধরপাকড়
রাজ্য সরকারের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা দফতরের ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালিক শম্ভুনাথ বেহরা মোবাইল ফোনের লোকেশন আড়াল করে নিজের আবাসনেই এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে লুকিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং তাঁর চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ তাঁকে আটক করে। এর আগে এই ঘটনায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সইদ মহম্মদ গুলজার এবং দুই ঠিকাদার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারাতলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত এগোচ্ছে পুলিশ।
উদ্ধারকাজ ও দুর্ঘটনার কারণ
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই সেনা, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। বুধবার রাতে উদ্ধারকাজ তদারকি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ইতিমধ্যেই ২০-২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সকালে আরও একজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, গুদামটির নির্মাণ পরিকল্পনায় গুরুতর ত্রুটি ছিল। ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং নির্মাণে গাফিলতির কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনার জেরে শহরের অন্যান্য নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী দিনের নির্মাণ নীতিতে। নিহত ও আহতদের আর্থিক সাহায্য এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা রয়েছে।