অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা চাই! বুধবার রাতেই কালীঘাটের বাড়িতে হাজির সিআইডি
.jpg.webp?w=800&resize=800,533&ssl=1)
‘ডিজে’ মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে তৎপর রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। আদালত থেকে এই বিষয়ে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরদিনই অর্থাৎ বুধবার রাতে সাংসদের কালীঘাটের বাড়িতে হাজির হন তদন্তকারীরা। আগামী ৩০ জুন এই মামলায় তাঁকে ফের তলব করে নোটিস ধরানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ৯টার পর সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে আদালতের নির্দেশের কপি পৌঁছে দেয়। তবে সেই সময় সাংসদ বাড়িতে ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।
বিতর্কের সূত্রপাত ও আইনি পদক্ষেপ
গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে একটি জনসভা থেকে বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিনের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে তা তিনি দেখবেন। একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ডিজে এমন জোরে বাজবে যে কান ঝালাপালা হয়ে যাবে। তাঁর এই মন্তব্যকে উস্কানিমূলক আখ্যা দিয়ে বাগুইআটির এক বাসিন্দা বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইতিপূর্বেই এই মামলায় অভিষেককে ভবানী ভবনে ডেকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা।
কণ্ঠস্বর পরীক্ষার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
জনসভার সেই বিতর্কিত অডিও ও ভিডিওর সত্যতা আইনিভাবে প্রমাণ করতেই ডিজিটাল তথ্যের সঙ্গে অভিষেকের আসল কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে সিআইডি। সেই কারণেই বিধাননগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কণ্ঠস্বর পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়, যা গত মঙ্গলবার মঞ্জুর করেছেন বিচারক। নোটিস অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন এই ভয়েস টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তৃণমূল সাংসদ ওইদিন হাজিরা দেবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই তদন্তের ফলাফল এবং কণ্ঠস্বরের নমুনার ফরেন্সিক রিপোর্ট আগামী দিনে মামলার মোড় ঘোরাতে পারে। অভিযোগের আইনি সত্যতা প্রমাণিত হলে তা রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।