মাত্র পাঁচদিনেই অসাধ্য সাধন, সেনাবাহিনীর তৎপরতায় জুড়ল শিলিগুড়ি-মিরিক!

পাহাড় ও সমতলে অতিভারী বৃষ্টির জেরে বালাসন নদীর প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল দুধিয়া অস্থায়ী সেতুর একাংশ। এর ফলে গত শুক্রবার ভোর থেকে ১২ নম্বর রাজ্য সড়ক হয়ে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে মাত্র পাঁচদিনের মাথায় ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পসের দ্রুত পদক্ষেপে ফের স্বাভাবিক হল শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ ও সাময়িক স্বস্তি
রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে গত শনি ও রবিবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর সুকনা ৩৩ কোরের ৫ ইঞ্জিনিয়ারিং রেজিমেন্ট। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বুধবার রাতের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হয়। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত হিউমপাইপের সেতুর ওপর ৩৪ মিটার দীর্ঘ একটি অস্থায়ী ফুটব্রিজ খুলে দেওয়া হয়েছে। সরাসরি যান চলাচল শুরু না হলেও, সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা নিরাপদে হেঁটে এই সেতু পার হতে পারছেন। নদীর ওপারে গিয়ে অন্য গাড়িতে চেপে তারা সহজেই মিরিক অথবা নেপাল সীমান্তের পশুপতি ফটকে পৌঁছাতে পারছেন। সেনাবাহিনীর এই অসামান্য তৎপরতায় স্থানীয়দের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হয়েছে।
বিপর্যয়ের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গত বছর অক্টোবরে বালাসনের ভয়াবহ হড়পা বানে পুরনো লোহার সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর পূর্ত দফতর এই অস্থায়ী হিউমপাইপ সেতুটি নির্মাণ করেছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতের প্রবল বৃষ্টি ও নদীর তীব্র স্রোতের ধাক্কায় এই অস্থায়ী কাঠামোর একাংশ ভেঙে পড়ে, যার জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়ে ওই অঞ্চলের জনজীবন ও পর্যটন ব্যবসায়। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য ফুটব্রিজটি তৈরির পাশাপাশি যান চলাচলের উপযোগী একটি চওড়া বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজও সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। এর ফলে খুব শিগগিরই দুধিয়া হয়ে শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুরক্ষিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।