তারাতলা বিপর্যয়ে কাঠগড়ায় ফিরহাদ হাকিম! কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

তারাতলা বিপর্যয়ে কাঠগড়ায় ফিরহাদ হাকিম! কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে ৯ জনের মৃত্যু ও ২০ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় এবার সরাসরি পূর্বতন তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পুরসভাকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে পুরসভার ব্যাপক দুর্নীতি। প্রমাণস্বরূপ তিনি ওই গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যানটি তুলে ধরেন, যেখানে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ারের সই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, টাকার বিনিময়ে কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানানোর এই ঘটনায় যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

দুর্নীতির অভিযোগ ও গাফিলতি

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে বড়সড় বেনিয়ম হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি অনুমোদিত ওই নথিতে সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নির্মলেন্দু সরকার এবং কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার রঞ্জন দাসের সই মিলেছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘কালী’ নামের এক ব্যক্তির অঙ্গুলিহেলন ছাড়া কলকাতা পুরসভায় কোনও প্ল্যানই পাশ হতো না। টাকার বিনিময়ে বেআইনি নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়ার কারণেই আজকের এই ভয়াবহ পরিণতি। পাশাপাশি, পূর্বতন সরকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুরসভায় কোনও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন, যা উদ্ধারকাজে প্রাথমিক বাধা সৃষ্টি করেছিল।

সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্ধারকাজ

এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরসভার অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত এগোচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে পূর্বতন সরকারের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও আধিকারিকের ওপর। বর্তমানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে উদ্ধারকাজে রাজ্য প্রশাসনকে সাহায্য করতে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্ট, এনডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স এবং কলকাতা পুলিশকে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এই মর্মান্তিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি না করে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *