ভিআইপি রুটে চরম অমানবিকতা! পুলিশি ধাক্কায় মোমো বিক্রেতার গায়ে পড়ল ফুটন্ত জল

জয়পুর: ভিআইপি কনভয় যাওয়ার আগে রাস্তা ফাঁকা করতে গিয়ে চরম অমানবিকতার নজির গড়ল রাজস্থানের জয়পুর পুলিশ। অভিযোগ, রাস্তার ধারের ঠেলাগাড়ি সরাতে গিয়ে এক মহিলা মোমো বিক্রেতার গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে পুলিশ। এর জেরে স্টিমারের ফুটন্ত জল ওই মহিলার গায়ে ছিটকে পড়ে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরের রামনগরিয়া থানা এলাকার জগতপুরার মহল রোডে।
কী ঘটেছিল সেদিন? জানা গিয়েছে, ২৭ বছর বয়সি ওই তরুণীর নাম রেশু গুপ্তা। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে পুলিশ ওই এলাকার হকারদের উচ্ছেদ করছিল।
- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ পুলিশের একটি গাড়ি এসে রেশুকে তাঁর ঠেলাগাড়িটি সরিয়ে নিতে বলে।
- রেশু গাড়িটি সরাচ্ছিলেন এবং পুলিশকে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে স্টিমারে ফুটন্ত গরম জল রয়েছে।
- অভিযোগ, তা সত্ত্বেও এক পুলিশ আধিকারিক জোর করে গাড়িতে ধাক্কা মারেন। এতে ফুটন্ত জল রেশুর বুক, বাঁ হাত এবং উরুতে পড়ে মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
- যন্ত্রণায় কাতরালেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোনও পুলিশ কর্মী তাঁকে সামান্যতম সাহায্য না করেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ।
বি.এসসি পাশ করেও জুটছে না চাকরি: রেশু জানান, তিনি বি.এসসি (B.Sc.) পাশ করেছেন। একাধিক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসেও চাকরি না জোটায়, সংসার চালাতে মাত্র ২৫ দিন আগে ক্যাপিটাল হাই স্ট্রিটে তিনি এই মোমোর ব্যবসা শুরু করেন। পরিবারে তাঁর মা এবং তিন বোন রয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেশুর এখন একটাই চিন্তা— কীভাবে চলবে তাঁদের সংসার!
এফআইআর নিতে অস্বীকার, উলটে আপসের প্রস্তাব: রেশুর দিদি তাঁকে স্কুটারে করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রাতে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে রামনগরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও পুলিশ এফআইআর (FIR) নিতে অস্বীকার করে। উলটে পুলিশ কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসার খরচ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার বা আপস করার প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ।
তীব্র নিন্দায় সরব বিরোধীরা: সোশ্যাল মিডিয়ায় যন্ত্রণায় কাতর ওই তরুণীর একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। রাজস্থান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা টিকা রাম জুলি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “ভিআইপি যাতায়াতের নামে রাস্তার ধারে বসে থাকা গরিব মানুষের প্রতি প্রশাসনের এমন অসংবেদনশীল আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পিত ভিআইপি যাতায়াতের কারণেই নিয়ম মেনে হকারদের সরানো হচ্ছিল। তবে গোটা ঘটনাটির তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। শিক্ষিত বেকারদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মাঝে পুলিশের এমন ‘দলদাস’ ও অমানবিক ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।