খাবার নেই, অমিল ওষুধ! ভোটের আগে অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার চরম বর্বরতা

খাবার নেই, অমিল ওষুধ! ভোটের আগে অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার চরম বর্বরতা

মুজফফরাবাদ: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ দমাতে এবার অমানবিকতার চরম সীমায় পৌঁছল পাক সেনা। একদিকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা, অন্যদিকে উপত্যকাজুড়ে খাবার ও ওষুধের হাহাকার— সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ এবং করুণ ছবির সাক্ষী থাকছে অধিকৃত কাশ্মীর।

বন্ধ খাবার ও ওষুধ সরবরাহ:

লাগাতার ধর্মঘট ও বিক্ষোভের জেরে এমনিতেই বিপর্যস্ত জনজীবন। তার ওপর পাক সেনার কোপে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জোগান। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ:

  • আটা, চাল, চিনি থেকে শুরু করে ডাল ও পেট্রোল— চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে সর্বত্র।
  • মুমূর্ষু রোগীদের জন্য মিলছে না জীবনদায়ী ওষুধও। সেনা বাধা দেওয়ায় ওষুধের দোকানগুলি কার্যত ফাঁকা।
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ছুটতে হচ্ছে।

মুজফফরাবাদের এক বাসিন্দা মহম্মদ মাসকিন এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, “চারপাশে সব জায়গায় ওষুধের খোঁজ করেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। এলাকার বড় দোকানগুলোও সব বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।”

বর্বরতার নেপথ্যে আসন্ন নির্বাচন:

আগামী ২৭ জুলাই অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন হতে চলেছে। আর এই নির্বাচনে হারের ভয়েই পাক সরকার ও সেনা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে কাজে লাগিয়ে দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

  • কমিটি নিষিদ্ধ: নাগরিক সমাজের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-কে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
  • গুলিচালনা ও মৃত্যু: এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জেএএসি-র ডাকা ধর্মঘটে নিরস্ত্র জনতার ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায় পাক সেনা। এই নারকীয় হামলায় চিকিৎসক ও মহিলা-সহ বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

নিজেদের অধিকারের দাবিতে সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদী আগুন নেভাতেই এখন উপত্যকায় ‘ভাতে মারার’ অমানবিক নীতি নিয়েছে পাক প্রশাসন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের জীবন রীতিমতো ওষ্ঠাগত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *