‘তৃণমূলের পাপ!’ তারাতলা বিপর্যয়ে ফিরহাদকে তোপ শুভেন্দুর, চার সপ্তাহ স্তব্ধ নির্মাণকাজ

‘তৃণমূলের পাপ!’ তারাতলা বিপর্যয়ে ফিরহাদকে তোপ শুভেন্দুর, চার সপ্তাহ স্তব্ধ নির্মাণকাজ

কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি পূর্বতন তৃণমূল সরকার এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দায়ী করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ‘তৃণমূলের পাপ’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গুদামের নকশায় ফিরহাদের সই রয়েছে বলেও প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

শুভেন্দুর তোপ ও ফিরহাদের পাল্টা সাফাই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি নথি দেখিয়ে দাবি করেন, নকশায় কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ জানুয়ারি এই গুদামের প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল।

  • মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ: “সব জায়গায় টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। এটা আপনাদের পাপের ফল। এই দেখুন মাননীয় ফিরহাদ হাকিমের সই। কাউকে ছাড়া হবে না।” এছাড়াও তিনি ‘কালী’ নামক মেয়রের এক প্রাক্তন ওএসডি-র দিকে আঙুল তুলে বলেন, পুরসভায় ‘কালী’ না বললে কোনও প্ল্যান পাশ হত না।
  • ফিরহাদের জবাব: বিধানসভায় ওই সময় উপস্থিত না থাকলেও পরে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “পুরসভার প্ল্যান অনুমোদন করে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট এবং মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি (MBC)। সেখানে টেকনিক্যাল লোকেরা থাকেন। কোনটা বেআইনি তা দেখার এক্তিয়ার আমার নেই। কমিশনারের হাত ঘুরে অনুমোদনের জন্য আমার কাছে আসে, সই করাটা নেহাতই একটা ফর্মালিটি।”

চার সপ্তাহের জন্য নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা তৃণমূল আমলে ছাড় পাওয়া সমস্ত নির্মাণকাজের নকশা খতিয়ে দেখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার।

  • কলকাতা পুরসভা, রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, বিষ্ণুপুর গ্রামীণ, সোনারপুর এবং বারুইপুর এলাকায় আগামী ৪ সপ্তাহ সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (জরুরি পরিষেবা ছাড়া)।
  • অনুমোদিত প্ল্যানগুলির অডিট করতে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পুলিশ, দমকল, খড়্গপুর আইআইটি এবং রাইটস-এর প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

ক্ষতিপূরণ ঘোষণা ও সেনার ভূমিকা এই দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হতাহতদের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য।

  • রাজ্যের সাহায্য: নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • কেন্দ্রের সাহায্য: নিহতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

উদ্ধারকাজে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের গাফিলতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারী লোহার বিম কাটার মতো কোনও আধুনিক যন্ত্র রাজ্য সরকারের ভাঁড়ারে ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সেনার বিহার রেজিমেন্টের ২১৫ জন জওয়ান আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান, যার ফলেই ২০ জনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *