তারাতলায় গুদাম ধস: নেই হাজিরা খাতা, নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশায় লালবাজার

কলকাতা: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে গাফিলতির একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব বা নথি পুলিশের হাতে নেই। অভিযোগ, শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনো রেজিস্টারই রাখা হতো না ওই নির্মাণস্থলে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কতজন আটকে থাকতে পারেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।
তদন্তে যা জানা গেল:
- হাজিরা খাতার অভাব: নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের হাজিরা নথিভুক্ত করার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। এর ফলে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
- সাক্ষী ও শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ: ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে উদ্ধার হওয়া জীবিত শ্রমিকদের জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে লালবাজার। তাঁদের কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- গ্রেফতার ও অপরাধের ইতিহাস: এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বিল্ডিং সুপারভাইজার মহম্মদ গুলজার এবং মৃত ঠিকাদার আসগর হুসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার রেকর্ড রয়েছে।
- পুরসভার ভূমিকার তদন্ত: গুদামের নকশা অনুমোদন ও তাতে কোনো আধিকারিকের গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে কলকাতা পুরসভার কাছে প্রয়োজনীয় নথি তলব করেছে পুলিশ।
এখনও পর্যন্ত সরকারি তথ্য:
বৃহস্পতিবার লালবাজারের সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং ১৯ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দুর্ঘটনার জন্য পূর্বতন সরকারকে দায়ী করে জানান, গুদামের নকশায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা ও শহরতলিতে সমস্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।