কেন মমতার মোহভঙ্গ? ঘর বাঁচাতে ‘পদ্ম-সন্ধি’ বিদ্রোহী নেতাদের!

কলকাতা: দিদির প্রিয় পাত্র থেকে কেন রাতারাতি ‘বিদ্রোহী’? কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায় বা অরূপ-ববিদের মতো একসময়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ নেতানেত্রীদের সঙ্গে কালীঘাটের সম্পর্কের এই ভাঙন কেন? তৃণমূলের অন্দরে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মমতার হাত ছেড়ে এই ‘পদ্ম-সন্ধি’ কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, এর পেছনে রয়েছে এক গভীর ও জটিল সমীকরণ।
কেন এই ‘ঘর পাল্টানো’র সিদ্ধান্ত?
বিদ্রোহী নেতাদের ঘনিষ্ট মহলের দাবি, এর পেছনে কেবল নিজেদের ‘সুরক্ষা’ নিশ্চিত করাই একমাত্র লক্ষ্য নয়। ঘরোয়া আলোচনায় বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এক কঠিন পরিস্থিতির শিকার। তাঁদের কথায়:
- নিজেদের সুরক্ষা: কেন্দ্রীয় এজেন্সি বা রাজনৈতিক চাপের মুখে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।
- এলাকার উন্নয়ন: রাজ্য সরকারের বঞ্চনার অভিযোগে উন্নয়ন থমকে যাওয়া এলাকাগুলিতে পুনরায় গতি আনা।
- কর্মীদের রক্ষা: তৃণমূলের নিজস্ব কোন্দল ও হিংসার হাত থেকে স্থানীয় স্তরের কর্মীদের বাঁচাতেই ঘুরপথে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা।
সূত্রের খবর, বিদ্রোহীরা মনে করছেন তৃণমূলের বর্তমান কাঠামোয় নিজেদের ইমেজ এবং এলাকা রক্ষা করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আপাতদৃষ্টিতে একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ মনে হলেও, তাঁরা একে দেখছেন ‘আত্মরক্ষার শেষ পথ’ হিসেবেই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা, অন্যদিকে বিজেপির সঙ্গে নীবর বোঝাপড়া—এই দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই মহারাষ্ট্রের মতোই বাংলায় তুরুপের তাস সাজাচ্ছেন বিদ্রোহীরা।