ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প, ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েক হাজার! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫

কারাকাস: শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে হওয়া পরপর দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৩০০ জন। ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাডো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি:
প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় রাজধানী কারাকাস থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কারাকাস ও সংলগ্ন অঞ্চলগুলি। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলবর্তী লা গুয়াইরা এলাকা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, লা গুয়াইরায় শতাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং ৭০ হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকাজ ও আশঙ্কা:
ভূমিকম্পের পর অন্তত ২০ বার আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজে চরম বিঘ্ন ঘটছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েক হাজার মানুষ আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ যত সরানো হচ্ছে, ততই একের পর এক দেহ উদ্ধার হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সাহায্য:
এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকার উদ্ধারকারী দলের সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের পক্ষ থেকেও ভেনেজুয়েলায় বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। আমেরিকার সরকার ভেনেজুয়েলাকে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ত্রাণ সাহায্যের ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জ ১৫ মিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য পাঠাচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার ওপর চাপানো মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলি দ্রুত প্রত্যাহার করা প্রয়োজন, নাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আসাম্ভব হয়ে পড়বে।