কুকুর এনে খোঁজ চলছে প্রাণের, তারাতলা বিপর্যয়ে ১৫ প্রাণহানির পর গ্রেফতার পুর আধিকারিক!

কলকাতার তারাতলায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আবাসন বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার সকাল থেকেই স্নিফার ডগ বা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নামিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১১ থাকলেও শুক্রবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে মোট মৃতের সংখ্যা ১৫-তে পৌঁছায়। বর্তমানে আরও ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধারকাজে রেলের প্রযুক্তি ও প্রতিকূল আবহাওয়া
দুর্ঘটনার পর থেকে টানা উদ্ধারকাজ চললেও বাধ সাধছে কলকাতার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকার্যে গতি আনতে ও এনডিআরএফ-কে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে ভারতীয় রেল। লোহা কাটার জন্য লিলুয়া ওয়ার্কশপ থেকে বিশেষ ‘প্লাজমা কাটিং মেশিন’ এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার আনা হয়েছে। গোটা দুর্ঘটনাস্থলকে ছয়টি ভাগে ভাগ করে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে স্ক্যানিং করা হচ্ছে, যাতে কংক্রিট ও মোটা লোহার বিমের নিচে কেউ আটকে থাকলে দ্রুত বের করা যায়।
দুর্নীতির নেপথ্যে এসআইটির জালে ‘প্রভাবশালী’ আধিকারিক
এই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) কলকাতা পুরনিগমের (KMC) প্রভাবশালী সরকারি আধিকারিক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই আধিকারিকের ইশারা ছাড়া পুরসভার অনেক সিদ্ধান্তই থমকে থাকত বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, কীভাবে একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পরিকল্পনাকে আইনি সিলমোহর দিয়ে ত্রুটিহীন হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা। এই গ্রেফতারির পর পুরসভার অন্দরে বড়সড় দুর্নীতির জাল উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও দলত্যাগ
তারাতলা বিপর্যয়ের আঁচ এসে পড়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও। এই ভয়াবহ ঘটনার প্রতিবাদে এবং পুরসভার বেনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষোভ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। দল ছাড়ার পর তিনি জানান, তৃণমূল জমানায় কীভাবে এই ধরনের বেনিয়ম ও বেআইনি নির্মাণ প্রশ্রয় পেল, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। এই বিপর্যয় এবং তার জেরে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ শাসক শিবিরের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।