টলিপাড়ায় দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে কড়া পদক্ষেপ নতুন বিধায়ক পাপিয়ার!

টালিগঞ্জে দীর্ঘদিনের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসকে পরাজিত করে জয়ের পর থেকেই টলিপাড়ার দুর্নীতি দমনে সরব হয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে তিনি স্টুডিও পাড়ার অন্দরমহলের দুর্নীতি এবং পূর্বতন প্রভাবশালীদের আধিপত্য নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে টলিপাড়াতেও যে স্বচ্ছতা ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে, তাঁর এই বক্তব্য তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
সতর্কবার্তা ও ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি
স্টুডিও পাড়াকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পাপিয়া অধিকারী ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ বা চিহ্নিতকরণ ও বিতাড়ন নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগের বিধায়ক এবং তাঁর ভাইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি সহ অন্তত চার-পাঁচজনকে ইন্ডাস্ট্রির কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাপিয়ার মতে, পুরনো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইন্ডাস্ট্রিতে থাকলে আগের মতোই অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই পুরনো দলের প্রভাব রুখতে তাঁদের চিহ্নিত করে সরে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও অনেককেই সতর্ক করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ফেডারেশনে পালাবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশন, যার সভাপতি পদে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত আসীন ছিলেন প্রাক্তন বিধায়কের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফেডারেশনের পূর্বতন কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। পাপিয়া অধিকারীর এই কড়া পদক্ষেপ এবং নতুন কমিটির নজরদারির ফলে আগামী এক বছরে টলিপাড়া থেকে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ সম্পূর্ণ দূর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলা বিনোদন জগতে একটি সুস্থ, স্বাধীন ও পেশাদার কাজের পরিবেশ ফিরে আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।