আধুনিক জিমের যুগেও গঙ্গার পাড়ে কুস্তির উন্মাদনা, মল্লযুদ্ধে ফিরছে বাঙালি!

হাওড়া ব্রিজের কাছে মল্লিকঘাট ফুলবাজারের ঠিক পাশেই গঙ্গার তীরে আজও নিঃশব্দে টিকে রয়েছে কলকাতার একমাত্র কুস্তির আখড়া ‘সিয়ারাম আখড়া ব্যায়াম সমিতি’। আধুনিক জিম ও ডিজিটাল জীবনযাত্রার ভিড়েও এই আখড়া শতাব্দীপ্রাচীন ভারতীয় মল্লযুদ্ধের ঐতিহ্য সগৌরবে ধরে রেখেছে। অত্যন্ত আশার কথা হলো, বর্তমানে চিরাচরিত এই খেলার প্রতি মানুষের আকর্ষণ ফের বাড়ছে এবং বেশ কয়েকজন বাঙালি তরুণ সম্প্রতি এই আখড়ায় কুস্তি শিখতে যোগ দিয়েছেন। মূলত শারীরিক সুস্থতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলার টানেই ভার্চুয়াল দুনিয়ার মোহ কাটিয়ে মাটির আখড়ামুখী হচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম।
বিনিময় মূল্যহীন এক চরিত্র গঠনের পাঠশালা
১৯৬১ সালে কিংবদন্তি কুস্তিগীর নাথমল পারেকের (দারা সিংয়ের প্রশিক্ষক) হাত ধরে এই আখড়ার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে গুরুজি জ্বালা তিওয়ারি দীর্ঘকাল এর হাল ধরেন এবং ২০২৩ সালে তাঁর প্রয়াণের পর বর্তমানে ছেলে সুরজ তিওয়ারি বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ভোরে ৪০ জনেরও বেশি কুস্তিগীর এখানে অনুশীলন করেন। এখানে জাত-ধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই, শেখার জন্য প্রয়োজন কেবল একটি লঙ্গোট ও অদম্য ইচ্ছা। এই আখড়ায় শুধু শক্তি প্রদর্শন বা শরীরচর্চাই নয়, পাশাপাশি নিরামিষ পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও নেশামুক্ত এক সুশৃঙ্খল জীবনযাপনও শেখানো হয়।
দঙ্গলের প্রত্যাবর্তন ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
মাঝখানে ঐতিহ্যবাহী ‘দঙ্গল’ বা মল্লযুদ্ধের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও, বর্তমানে তা ফের স্বমহিমায় ফিরতে শুরু করেছে। সামনেই সোদপুরে একটি বড় দঙ্গলের আয়োজন তারই অন্যতম প্রমাণ। একসময় বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এই আখড়াটি সরিয়ে দেওয়ার নোটিস এলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং সরকার এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে এমন কঠোর ও সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার এই প্রত্যাবর্তন আগামী দিনে সমাজকে আরও সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নেশামুক্ত এক নতুন প্রজন্ম উপহার দিতে সাহায্য করবে।