লোকসভায় আসল তৃণমূল কারা? ২১ জুলাইয়ের আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পিকারের

লোকসভায় কারা আসল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কাদের হাতে দলের আদি প্রতীক থাকবে, সেই জল্পনার অবসান হতে চলেছে খুব শিগগিরই। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের দুই শিবিরের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকারের সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাটপন্থী শিবিরের বক্তব্য শোনা হয়েছে। একই সঙ্গে শিব সেনার দুই শিবিরের শুনানিও শেষ হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা, আর তার প্রথম দিনেই লোকসভার নতুন আসন বিন্যাস স্পষ্ট করে দেবেন স্পিকার।
প্রতীক ও সাংসদ পদের টানাপোড়েন
তৃণমূলের অন্দরে এই জটিলতার মূল কারণ হলো দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগদান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সাফ দাবি, অন্য দলে যোগ দেওয়ায় এই বিদ্রোহীরা অবিলম্বে তাঁদের সাংসদ পদ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তৃণমূলের প্রতীক ও দলীয় সম্পদের অধিকার ছেড়ে দিতে তাঁরা নারাজ এবং এর মীমাংসা আদালতেই হবে। উভয় পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণেই লোকসভার স্পিকার চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহল।
একুশে জুলাইয়ের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং বঙ্গ রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে। ঐতিহাসিকভাবে ২১ জুলাই তৃণমূলের কাছে শক্তি প্রদর্শনের দিন হলেও, সদ্য ক্ষমতা হারানোর পর দলীয় কোন্দল ও ভাঙনে এবার সেই ছবি অনেকটাই ছন্নছাড়া। আসল তৃণমূল কারা এবং সংসদে কাদের অস্তিত্ব টিকবে, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা স্পিকারের রায়েই কাটবে। একুশে জুলাইয়ের আগে এই সিদ্ধান্ত যেমন দলের সাংগঠনিক কাঠামো স্পষ্ট করবে, তেমনই ওই দিনটিতে দলের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তাও অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেবে।