একে একে সঙ্গ ছাড়ছেন শরিকরা, নিঃসঙ্গ স্ট্যালিন ঝুঁকবেন কি বিজেপির দিকে?

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত বিধানসভা বিপর্যয়ের পর ক্রমশ কোণঠাঁসা হয়ে পড়ছেন এম কে স্ট্যালিন। ভোটের ফলপ্রকাশের পর একে একে সঙ্গ ছেড়েছে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম এবং মুসলিম লিগের মতো দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীরা। এবার সেই ভাঙনের তালিকায় যুক্ত হল তামিল রাজনীতির পরিচিত মুখ ভাইকোর দল এমডিএমকে। এই ধারাবাহিক শরিক-বিদায়ে স্ট্যালিনের ডিএমকে এখন অনেকটাই নিঃসঙ্গ ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত।
ভাইকোর বিদায় ও শরিকি অসন্তোষ
দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেকুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালাইন্সের অংশ ছিল এমডিএমকে। তবে ভাইকোর অভিযোগ, জোটে যথাযথ সম্মান পাননি তাঁরা। বড় শরিক হওয়া সত্ত্বেও বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের মাত্র চারটি আসন দেওয়া হয় এবং নিজস্ব প্রতীকের বদলে ডিএমকের প্রতীক নিয়ে লড়তে বাধ্য করা হয়। দলের নিজস্বতার সঙ্গে আপস করতে না পেরেই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাইকো। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, ভাইকোর দল এবার অভিনেতা বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে। বিজয়ের রাজনীতির ধরনে স্ট্যালিনের ছায়া স্পষ্ট, যা ডিএমকের ঐতিহ্যবাহী পেরিয়ারবাদী ভোটব্যাংককে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
অস্তিত্ব সংকট ও বিজেপির হাতছানি
একের পর এক জোটসঙ্গীর দলত্যাগে স্ট্যালিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যখন ঘোর সংকটে, তখন বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে বিজেপির নাম। রাজনৈতিক গুঞ্জন অনুযায়ী, কংগ্রেস হাত ছাড়ার পর এনডিএ শিবিরের তরফে স্ট্যালিনকে পরোক্ষ বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আসন পুনর্বিন্যাস এবং সংবিধান সংশোধনী বিলগুলিতে ডিএমকের সমর্থন পেলে কেন্দ্রে বিজেপির পথ অনেকটাই সুগম হবে। অন্যদিকে, অস্তিত্ব সংকটে ভোগা স্ট্যালিনও নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার সুযোগ পাবেন।
ডিএমকের কট্টর ব্রাহ্মণ্যবাদ-বিরোধী আদর্শের সঙ্গে বিজেপির আদর্শগত অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে রাজনীতির ময়দানে আসাম্ভব বলে কিছু হয় না। অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে স্ট্যালিন এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপি যদি এক ছাতার তলায় আসে, তবে তা তামিল তথা জাতীয় রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।