‘দল শেষ করে দিল!’ দিদির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অনুব্রত মণ্ডল

বীরভূমের রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তন! দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত হিসেবে পরিচিত দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবার তৃণমূলে নিজের পুরোনো অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সরব হয়েছেন। ‘নব তৃণমূলে’র বীরভূম জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন দল পরিচালনার বর্তমান পদ্ধতি এবং প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’কে।
যা বলেছেন অনুব্রত:
নিউজ১৮ বাংলার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অনুব্রত বলেন, ‘‘৩৪ বছর ধরে যে সিপিএমকে আমরা বীরভূম-বর্ধমান থেকে হটিয়েছি, তা কি সহজ ছিল? নিজের জীবনের মায়া করিনি। কিন্তু এখন একটা চোর-ডাকাত আইপ্যাক এসে দলটাকে শেষ করে দিয়ে গেল।’’ মমতাকে উদ্দেশ্য করে তাঁর আক্ষেপ, ‘‘দিদি মানুষ চিনতে ভুল করেছেন। যারা খেটে দল তৈরি করেছিল, তাদের ভুলে গিয়ে যাকে খুশি টিকিট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই কি দল চলে?’’
মমতার ফোন ও অভিমান:
জেলবন্দি থাকা অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, এ কথা স্বীকার করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুব্রতর মনে ক্ষোভের পাহাড়। তিনি দাবি করেন, ভোটের পরেও মমতা তাঁকে তিনবার ফোন করেছিলেন। সেই ফোনের প্রেক্ষিতে অনুব্রতর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘দিদি ফোন করলে আমি বলব, আমি তৃণমূলই করছি। আমি তো ওনাকে আগেই বলেছিলাম, আমি এখন দলের কাজ করব।’’
অনুব্রত আরও বলেন, দলের অভিভাবক হিসেবে মমতার বোঝা উচিত ছিল যে দল ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর দল ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সেই সময়ও আইপ্যাকের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল।
কাজল শেখ প্রসঙ্গে:
নতুন কমিটিতে বীরভূম জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর নামে কাজল শেখ সমর্থন জানানোয় অনুব্রতর প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানান, কাজল শেখের কাছ থেকে তাঁকে সংগঠন শিখতে হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘আমি মানুষকে নিয়ে সংগঠন করি। বীরভূমের মানুষ আমার সঙ্গেই আছে।’’
দীর্ঘদিনের লড়াই ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অনুব্রতর এই বিদ্রোহ বীরভূমের তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।