তৃণমূলের ‘অচলায়তন’ ভাঙার ডাক সুদীপের, কালীবাবুদের নিশানা করে বিস্ফোরক ছাত্রনেতা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল ফের একবার। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কালীঘাটের ‘অচলায়তন’-এর বিরুদ্ধে সরব হলেন সুদীপ রাহা। বর্তমানে তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক পোস্টে সুদীপ লেখেন, “বেইমান, গদ্দার বা বিশ্বাসঘাতক— এই ন্যারেটিভগুলো থেকে বেরিয়ে আসুন। যোগ্যদের বঞ্চিত করার মাশুল গুনতে হয়েছে দলকে।” নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় যে কালীঘাট এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, তা স্পষ্ট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন যোগ্য নেতারা দল ছেড়ে যেতে বাধ্য হলেন? কারা সংগুলোকে সামনে রেখে সংগঠনের সর্বনাশ করল, তা খুঁজে দেখারও আহ্বান জানান তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের হারের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সুদীপ। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে লেখেন, “৪ মে-র পরেও চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু পরিবর্তে কী পেলাম? ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হল! আবেগ-আনুগত্য কি একতরফা? যেদিন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে, সেদিন আপনারাও অচলায়তনের ‘পঞ্চক’ হয়ে পড়বেন।”
সুদীপের দাবি, তিনি দলবদল করেননি, বরং তৃণমূলের আদর্শেই অটল রয়েছেন। তবে দলের অন্দরে ‘গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’ এবং আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই তাঁর এই কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।