যারা এতদিন হিংসাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, তারাই এখন আইনের বিরোধিতা করছেন: দিলীপ ঘোষ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে সদ্য কার্যকর হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিলীপ ঘোষের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই নতুন আইন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়; মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশসহ দেশের একাধিক রাজ্যে আগেই এ ধরনের জননিরাপত্তা আইন কার্যকর রয়েছে।
বিরোধীদের সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যারা এতদিন রাজনৈতিক হিংসাকে মদত দিয়েছেন, তারাই এখন এই আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই আইন যদি অনেক আগে আসত, তবে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যেত।”
নতুন আইনের মূল বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: জননিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় আটক করা যাবে।
- অপরাধের পরিধি: তোলাবাজি, বালিপাচার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক কারবার এবং ভাঙচুরের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বহিষ্কারের ক্ষমতা (Externment): আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা থাকলে জেলা শাসক (DM) বা পুলিশ কমিশনার/এসপি কোনো ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিতে পারবেন।
সরকারি মহলের দাবি, এই আইন জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সমাজবিরোধীদের মোকাবিলায় প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, বিরোধীদের আশঙ্কা, আইনের কিছু ধারা অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।