স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ দেড় বছরের শিশু, তদন্তের দাবিতে উত্তাল এলাকা

নদিয়া: স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্যাম্প থেকে নেওয়া ওষুধ খাওয়ানোর পর দেড় বছরের এক শিশুর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতির ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেল নদিয়ার উজিরপুর গ্রামে। অভিযোগ, ওষুধ খাওয়ার পরপরই শিশুটির মুখে জ্বালা ও পোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ আছড়ে পড়ল রাস্তায়।
ঘটনার সূত্রপাত: কোতোয়ালি থানার উজিরপুর গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তরফে একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। সর্দি-জ্বরের উপসর্গ থাকায় এক মা তাঁর দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে সেখানে যান। অভিযোগ, চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধ খাওয়ানোর পরই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাকে প্রথমে বিষ্ণুপুর গ্রামীণ হাসপাতাল ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল হয়ে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পরিবারের দাবি, শিশুটির শারীরিক অবস্থা এতটাই সঙ্কটজনক ছিল যে, তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত রানাঘাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা ভেবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ ও অবরোধ: শিশুটির অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার রাত থেকেই কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপ রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের ফলে দুই জেলার সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কী বলছে স্বাস্থ্য দপ্তর? ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিতকুমার দাস জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ওষুধের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ওষুধটির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে, ওষুধের গুণগত মান, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং বিতরণের প্রক্রিয়ায় কোনো গলদ ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ওই একই ব্যাচের ওষুধ অন্য কোনো শিশুকে দেওয়া হয়েছে কি না এবং তাদের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা নিয়েও খোঁজখবর নিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ।