“শাকসবজির মতো বার্থ বিক্রি করছেন টিটিইরা!”, ট্রেনে অপরাধের ঘটনায় রেলকে কড়া হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

কলকাতা: দূরপাল্লার ট্রেনে ফাঁকা বার্থকে কি বাজারের সবজির মতো বিক্রি করা হচ্ছে? সম্প্রতি এক মামলায় এমনই বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, টিটিইদের এই বেআইনি কর্মকাণ্ডই ট্রেনের কামরায় মাদক খাইয়ে ডাকাতি বা অপরাধমূলক ঘটনার মূল কারণ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ঘটনাটি ২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিয়ালদহগামী তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে দুই যাত্রীকে মাদক খাইয়ে সর্বস্ব লুট করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় সুনীলকুমার দাস নামে এক যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অপর এক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তদন্তে জানা যায়, ওই দুই যাত্রী ট্রেনের টিকিট পরীক্ষককে (TTE) ঘুষ দিয়ে সংরক্ষিত কামরায় বার্থ জোগাড় করেছিলেন। পরে ট্রেনেরই অপর কিছু যাত্রী তাঁদের মাদক মেশানো খাবার খাইয়ে লুটপাট চালায়।
হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ: দুই দোষীর সাজা চ্যালেঞ্জ করে করা মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিরক্তি প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ:
- টিটিইদের ভূমিকা: আদালত সরাসরি মন্তব্য করেছে, “টিটিইরা ট্রেনের ফাঁকা বার্থ বাজারের সবজির মতো বিক্রি করেন।”
- অপরাধের উৎস: টাকার বিনিময়ে সংরক্ষণহীন যাত্রীদের বার্থ পাইয়ে দেওয়ার প্রথাটিই অপরাধীদের সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
- কর্তব্যে অবহেলা: শুধু অভিযুক্ত টিটিই নন, ওই রুটে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সকল টিটিই-ই নিজেদের কর্তব্যে চরম গাফিলতি করেছেন বলে আদালত মনে করে।
রেল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে নির্দেশ: এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। ভারতীয় রেলের এই গাফিলতি রুখতে আদালত অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে। রায়ের একটি কপি ইস্টার্ন রেলের জেনারেল ম্যানেজারসহ দেশের অন্যান্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অপরাধে মদতদাতা ওই রেল আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।