ছোঁয়া লাগলেই জরিমানা! ভারতের যে গ্রামে ৩০০ বছর ধরে চলছে এই অদ্ভুত নিয়ম

শহুরে আইন-কানুন বা পুলিশি ঝামেলার বাইরেও ভারতের এমন কিছু গ্রাম রয়েছে, যেখানে আজও অটুট রয়েছে কয়েকশো বছরের পুরনো প্রথা। এমনই এক বিস্ময়কর গ্রাম মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ‘খেজুরিয়া’। যাকে স্থানীয়রা ভালোবেসে বলেন ‘শান্তির গ্রাম’।
কী এই অদ্ভুত নিয়ম? খেজুরিয়া গ্রামে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে ৩০০ বছর আগে এক নিয়ম চালু করেছিলেন গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা। নিয়ম অনুযায়ী—
- গ্রামের কোনো গাছের ডাল ভাঙা, পাতা ছেঁড়া বা ফুল তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- বিনা কারণে কাউকে ধাক্কা দেওয়া, ঠাট্টা করে গায়ে হাত দেওয়া কিংবা বাচ্চাদের গায়ে জোরে চিমটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ।
জরিমানার অংক: এই নিয়ম ভাঙলে প্রথমবার ৫০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ১,০০০ টাকা এবং তৃতীয়বার ২,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এই জরিমানার টাকা জমা পড়ে গ্রামের মন্দিরের ফান্ডে, যা দিয়ে পরে রাস্তার উন্নয়ন, স্কুল মেরামত এবং বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজ করা হয়।
কেন মানা হয় এমন কড়াকড়ি? গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, প্রকৃতি ও মানুষকে সম্মান না করলে গ্রামে অশান্তি নেমে আসবে। পরিবেশ রক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই প্রথা। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই নিয়মের ফলে গ্রামে অপরাধের হার প্রায় শূন্য। এখানে কোনো পুলিশ স্টেশনের প্রয়োজন পড়ে না। গ্রামের শতবর্ষী গাছগুলো এবং মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনই এই প্রথার সার্থকতা প্রমাণ করে।
বাইরের লোকেদের জন্য: পর্যটক বা বাইরের কেউ যদি না জেনে নিয়ম ভেঙে ফেলেন, তবে প্রথমবার সতর্ক করা হয়। তবে এরপর ভুল করলে জরিমানা দিতেই হয়। গ্রামের মুখে প্রবেশপথেই বড় বড় বোর্ডে লেখা থাকে— “গাছ ও মানুষকে সম্মান করুন”।
সরকারি আইনের চেয়েও গ্রামের এই নিজস্ব ‘সামাজিক আইন’ এবং শৃঙ্খলা, খেজুরিয়া গ্রামকে ভারতের বুকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।