আলিপুরদুয়ারে বারুইপুরের ছায়া! গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যা, শিশুকন্যাকেও বালিশ চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদন, আলিপুরদুয়ার: বারুইপুর কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলিপুরদুয়ারে গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। বীরপাড়া আইটিআই সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির রাতে ঘরে ঢুকে এক বধূকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে ওই বধূর সাত বছরের শিশুকন্যাকেও বালিশ চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: শনিবার রাতে ওই বধূর স্বামী কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকায় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকে চড়াও হয়। স্থানীয়দের দাবি, বধূর পরনের পোশাক ছিল বিধ্বস্ত। তাঁর গলায় কালশিটে, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া এবং শরীরে একাধিক কামড়ের চিহ্ন ও সূচ দিয়ে ক্ষত করার দাগ মিলেছে। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, ধর্ষণের চেষ্টায় বাধা দেওয়ার কারণেই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।
শিশুকন্যার বয়ান: অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশুকন্যা রবিবার পুলিশকে জানায়, সে ঘরে মুখে গামছা বাঁধা এক লম্বা-চওড়া ব্যক্তিকে দেখেছিল। অভিযুক্ত পরিচিত হওয়ার কারণেই শিশুটি প্রথমে চিৎকার করেনি বলে পুলিশের অনুমান। এই বয়ানের ভিত্তিতেই পুলিশ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
তদন্তের অবস্থা: শনিবার রাতে স্থানীয় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে বধূর নিথর দেহ ও বিছানায় বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুকন্যাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়েই আলিপুরদুয়ার থানার আইসি অনির্বাণ ভট্টাচার্য সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিহতের দাদার অভিযোগ, সাপের কামড়ের ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।