ক্যান্সারের চেয়েও প্রাণঘাতী! ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের ছোট্ট ক্ষত ডেকে আনছে মৃত্যু

ডায়াবেটিস মানেই এখন আর শুধু রক্তে শর্করার আধিক্য নয়, এর অন্যতম ভয়ংকর পরিণতি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডায়াবেটিক ফুট আলসার’। অবহেলা করলে পায়ের সামান্য একটি ঘা ভয়াবহ আলসারে পরিণত হতে পারে, এমনকি পা কেটে বাদ দেওয়ারও পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সারের চেয়েও বেশি!
গবেষণা কী বলছে? ভারতের পাঁচটি প্রধান ডায়াবেটিস কেন্দ্রে ১৪ বছর ধরে ২,৮৮০ জন রোগীর ওপর ‘আইডিআইএ-ফোকাস’ নামক একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। এই গবেষণার ফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেখা গেছে, ফুট আলসারে আক্রান্ত ২২ শতাংশ রোগী পাঁচ বছরের মধ্যে এবং ৭১ শতাংশ রোগী দশ বছরের মধ্যে মারা যান।
অন্যদিকে, বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল JAMA-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব রোগীর পায়ের বুড়ো আঙুল কেটে ফেলতে হয়, তাদের ৭০ শতাংশই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
কেন এটি এত ভয়ংকর? ল্যানসেট-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালের মতে, ডায়াবেটিক ফুট আলসার কেবল পায়ের ক্ষত নয়। এটি শরীরের রক্তনালী, স্নায়ু ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে রোগীদের হৃদরোগ, কিডনি ফেইলিওর ও সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে অকাল মৃত্যু হয়।
সাধারণত প্রতি চার-পাঁচ জন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজনের ফুট আলসার দেখা যায়। এর ফলে পায়ের স্নায়ুর অনুভূতি কমে যায়, তাই আঘাত বা জ্বালা টের পাওয়া যায় না। রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্ষত সহজে শুকায় না এবং ধীরে ধীরে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে।
বাঁচার উপায় কী? এই ‘নীরব ঘাতক’ থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো:
- নিয়মিত পরীক্ষা: ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন নিজের পা ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
- সতর্কতা: খালি পায়ে হাঁটা একেবারেই নিষিদ্ধ।
- দ্রুত চিকিৎসা: পায়ে কোনো ফাটা, ফোলা, পুঁজ বা কালো দাগ দেখলে অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- সুগার নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করার মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখাই আক্রান্ত পা এবং জীবন বাঁচানোর প্রধান চাবিকাঠি।