ওয়াকফ, ঈদগাহ নাকি ‘সবকা সাথ’! ২০২৭-এর মহারণে উত্তরপ্রদেশের মুসলিম ভোট কার ঝুলিতে?

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। সম্প্রতি ‘আজ তক’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পঞ্চায়েত আজ তক’-এর মঞ্চে এই ইস্যুতেই তুমুল তর্কে জড়ান বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি (SP) এবং মিম (AIMIM)-এর শীর্ষ নেতারা। মুসলিম প্রতিনিধিত্ব, ওয়াকফ বিল এবং সম্ভলের ঈদগাহ নিয়ে তিন দলের নেতাদের মধ্যে জোরালো তরজা হয়।
বিজেপির হাতিয়ার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’: বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র মহসিন রাজা দাবি করেন, তাঁদের দল নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায়ের নয়, বরং দেশের ১০০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্টন করে। ওয়াকফ আইন সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এর উদ্দেশ্য কারও সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া নয়, বরং পূর্বতন সরকারের আমলের দুর্নীতি ও জবরদখল রুখে ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা। ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তিকেও তিনি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই জরুরি বলে দাবি করেন।
মিম-এর অভিযোগ ‘সম্পত্তি দখল’: বিজেপির এই যুক্তির কড়া বিরোধিতা করেন AIMIM মুখপাত্র শওকত আলী। তাঁর অভিযোগ, সরকার ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো দখল করতে চাইছে। ব্যবহারভিত্তিক ওয়াকফ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে শতবর্ষের পুরোনো মসজিদ ও কবরস্থানগুলির কী হবে, তা নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি সংবিধান পরিপন্থী বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া, সম্ভলে ঈদগাহ ভেঙে ফেলা নিয়ে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শওকত।
সমাজবাদী পার্টির চ্যালেঞ্জ: অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র ড. এম এইচ খান বিজেপির উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারি প্রকল্প কারও প্রতি অনুগ্রহ নয়, বরং তা জনগণের করের টাকায় চলে এবং তাতে সবার সমান অধিকার রয়েছে। আত্মবিশ্বাসী ড. খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সপা ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে বিজেপির শক্তি অর্ধেক করে দিয়েছে, আর ২০২৭ সালের বিধানসভায় তাদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭-এর আগে উত্তরপ্রদেশের মুসলিম ভোটকে নিজেদের পক্ষে টানতে তিন দলই যে আগ্রাসী কৌশল নিয়ে ময়দানে নামছে, তা এই বিতর্ক থেকেই স্পষ্ট।