রথের দিন কেন ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় জগন্নাথের প্রসাদ? পিছনের রহস্য জানলে চমকে উঠবেন!

পুরী: ওড়িশার পবিত্র পুরী ধামে শুরু হয়েছে ভগবান জগন্নাথের বিশ্ববিখ্যাত রথযাত্রা। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে বড়দণ্ড মুখরিত। তবে, রথযাত্রার এই বিপুল জাঁকজমকের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু প্রাচীন ও রহস্যময় প্রথা, যা শুনলে অবাক হতে হয়। এর মধ্যেই অন্যতম হলো ‘অধরপনা’। এটি এমন এক প্রসাদ, যা তৈরি তো হয় পরম যত্নে, কিন্তু তা কোনো মানুষের মুখে ওঠে না! উল্টে তা ভেঙে ফেলে দেওয়া হয় রথের ওপর। কিন্তু কেন?
অধরপনা আসলে কী? ‘অধর’ শব্দের অর্থ ঠোঁট এবং ‘পনা’ হলো শরবত। ছানা, দুধ, পনির, কলা, গুড়, জায়ফল ও নানা সুগন্ধি মশলা মিশিয়ে অত্যন্ত সুস্বাদু এই শরবত তৈরি করা হয়। প্রথা অনুযায়ী, তিনটি বিশাল মাটির পাত্রে (যাকে লাঠিয়া বলা হয়) এই শরবত ভরে তিন রথের ওপর ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার ঠোঁটের কাছে নিবেদন করা হয়।
কেন এই প্রসাদ ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়? পুজো শেষ হওয়ার পরেই এই সুস্বাদু প্রসাদভর্তি মাটির পাত্রগুলি রথের ওপর আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। শরবত গড়িয়ে পড়ে রথের কাঠে ও মাটিতে। এই অদ্ভুত প্রথার পেছনের কারণগুলি হলো:
- অদৃশ্য আত্মাদের তৃষ্ণা নিবারণ: জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় কেবল রক্তমাংসের মানুষ নয়, বিশ্বাস করা হয় অগণিত অতৃপ্ত আত্মা এবং প্রেতাত্মারাও প্রভুর আশীর্বাদ পেতে রথের পিছু নেয়। এই ভেঙে ফেলা শরবত আসলে সেই আত্মাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্যই নিবেদন করা হয়।
- মানুষের জন্য নিষিদ্ধ: পুরীর জগন্নাথ ধামের এটিই একমাত্র মহাপ্রসাদ, যা সাধারণ ভক্ত বা মন্দিরের কোনও পুরোহিত গ্রহণ করতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণভাবে পারলৌকিক ও অদৃশ্য শক্তির উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
- পার্শ্বদেবতাদের তুষ্ট করা: রথের চাকা এবং কাঠের খাঁজে অনেক অদৃশ্য শক্তি ও পার্শ্বদেবতারা অবস্থান করেন। প্রসাদ মাটিতে ছড়িয়ে পড়লে তাঁরাও তা গ্রহণ করেন।
ঈশ্বরের অসীম করুণা ‘অধরপনা’-র এই প্রথা প্রমাণ করে যে, ভগবান জগন্নাথের করুণা কেবল জীবিতদের জন্যই নয়, বরং ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতের সবার জন্যই অবারিত। মহাবিশ্বের ইতিবাচক ও নেতিবাচক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই স্বয়ং মহাপ্রভু এই বিশেষ প্রসাদ আত্মাদের উদ্দেশ্যে দান করেন।