হোস্টেলে ‘নরক যন্ত্রণা’! বিচার চাইতে ১৮ কিমি হেঁটে কালেক্টরের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ল পড়ুয়ারা

মধ্যপ্রদেশের বেতুলের একটি সরকারি হোস্টেলে সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ। বিচার চাইতে দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে সোজা জেলা কালেক্টরের দপ্তরে পৌঁছল ৩৩ জন আদিবাসী পড়ুয়া। রুদ্ধদ্বার কক্ষে কালেক্টরকে নিজেদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা।
কী ঘটেছিল? বেতুল জেলার পাধার পিএম শ্রী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৩৩ জন পড়ুয়া বৃহস্পতিবার একযোগে ১৮ কিলোমিটার হেঁটে কালেক্টরেট চত্বরে পৌঁছয়। শুরুতে এসডিএম এবং তহসিলদার তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও, পড়ুয়ারা ছিল অনড়। তাদের সাফ কথা ছিল, জেলা কালেক্টর ছাড়া আর কারও কাছে তারা মুখ খুলবে না।
পড়ুয়াদের মূল অভিযোগ: বেতুল কালেক্টর ড. সৌরভ সঞ্জয় সোনওয়ানের সঙ্গে কথা বলার সময় হোস্টেলের সুপারিনটেনডেন্ট সিরসাম সিং পার্টেকে নিয়ে ভয়ংকর সব তথ্য ফাঁস করে পড়ুয়ারা।
- নির্মম অত্যাচার: সামান্য কারণে বা খেলাধুলার সময় বিবাদ হলে ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করতেন অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্ট।
- বেগার খাটানো: পড়াশোনার বদলে ছাত্রদের দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজ এবং শ্রমিকের কাজ করানো হত।
- চিকিৎসার নামে তোলাবাজি: কোনও ছাত্র অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বদলে, উলটে তাদের কাছ থেকেই টাকা চাওয়া হত।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ: “হয় সুপার হোস্টেলে থাকবেন, নতুবা আমরা সবাই হোস্টেল ছেড়ে চলে যাব”— ছাত্রদের এই জেদ এবং অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন কালেক্টর।
- সুপারকে অপসারণ: অভিযুক্ত সিরসাম সিং পার্টেকে অবিলম্বে ওই হোস্টেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- তদন্ত কমিটি গঠন: ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
- তিনদিনের ডেডলাইন: কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।