শিলিগুড়ি পুরনিগমে বড় রদবদল! ভোটের আগেই একধাক্কায় বাড়তে পারে ওয়ার্ড সংখ্যা

শিলিগুড়ি: আসন্ন শিলিগুড়ি পুরনিগমের (Siliguri Municipal Corporation) নির্বাচন ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন তৎপরতা। জনসংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য ফেরাতে এবার শিলিগুড়িতে ওয়ার্ড সংখ্যা একধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়ানোর পথে হাঁটছে রাজ্য প্রশাসন।
নবান্ন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং আসন সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতেই পুরভোট হতে পারে।
এক নজরে খবরের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি:
- কবে হবে ভোট? প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই ওয়ার্ড সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও সংরক্ষণের কাজ সম্পূর্ণ করা। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বর্তমান প্রশাসকের মেয়াদ ফুরোনোর আগেই নতুন বোর্ড গঠন করতে চায় নবান্ন।
- বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা: বর্তমানে শিলিগুড়ি পুরনিগমে মোট ৪৭টি ওয়ার্ড রয়েছে (৩৩টি দার্জিলিং ও ১৪টি জলপাইগুড়ি জেলায়)। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আসন্ন ভোটের আগেই এই সংখ্যা বেড়ে ৭০-এর কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
- কেন এই রদবদল? ১৯৯৪ সালে শিলিগুড়ি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার সময় জনসংখ্যার সঠিক ভারসাম্য রাখা হয়নি। এর ফলে বর্তমানে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে। যেমন— ৪৬ নং ওয়ার্ডে ভোটার প্রায় ২৩ হাজার, ৪১ নং ওয়ার্ডে ১৮ হাজার। অন্যদিকে ১১ থেকে ১৯ নম্বর দিকের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা মাত্র আড়াই থেকে ৪ হাজারের মধ্যে! এই বিপুল বৈষম্য মেটাতেই বড় ওয়ার্ডগুলি ভাঙার সিদ্ধান্ত।
- যুক্ত হচ্ছে নতুন এলাকা: দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দার্জিলিং মোড়ের ওপারে মাটিগাড়া ব্লকের চম্পাসারি এবং পাথরঘাটার দ্রুত নগরায়ণ হওয়া গ্রামীণ এলাকাগুলিকে পুরনিগমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার মানুষ আধুনিক নাগরিক পরিষেবা পাবেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ: তৃণমূলের প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেবও আগে এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। এবার রাজ্য সরকারের নির্দেশে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি জারি করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে চলেছে। সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করবে নির্বাচন কমিশন।