বাতিল লাইসেন্স, তবুও চলছিল কাজ! গুজরাটে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত ৮, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মোদীর

গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন অন্তত ৮ জন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। শনিবার দুপুরের এই আচমকা বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকেও তার কানফাটানো শব্দ শোনা গিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
- বেআইনি কারবার: পুলিশ সূত্রে খবর, কারখানাটির মালিক মেহুল ডোডিয়া। তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— ওই কারখানাটির লাইসেন্স আগেই বাতিল করেছিল প্রশাসন। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গোপনে চলছিল বাজি তৈরির কাজ।
- তদন্ত শুরু: বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলেও, কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)-এর বিশেষ দল। পুলিশ অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
- প্রশাসনের তৎপরতা: ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে পৌঁছান আহমেদাবাদের মেয়র হিতেশ বারোট, পুরনিগমের ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের শীর্ষ আধিকারিক এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, “আমেদাবাদের বাজি কারখানায় প্রাণহানির খবরে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। শোকার্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”
হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের তরফেও সবরকমের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।