খোদ পুলিশ সদর দফতরেই ডিজিপির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! কারণ ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য

আগরতলার পুলিশ সদর দফতরে খোদ পুলিশ মহাপরিচালক (DGP) অনুরাগ ধনখড়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল ত্রিপুরায়। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- পুলিশ সদর দফতরে নিজের অফিস কক্ষেই উদ্ধার হয় ডিজিপি-র ঝুলন্ত দেহ।
- হাসপাতালে ৪৮ মিনিট আপ্রাণ চেষ্টার পর দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
- নীরব মোদী কাণ্ড ও ১৯৮৪-র শিখ দাঙ্গা মামলার তদন্তভার সামলেছিলেন এই দুঁদে আইপিএস।
কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, এদিন আগরতলা পুলিশ সদর দফতরে নিজের অফিসেই অনুরাগ ধনখড়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পান্ত (জিবিপি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সরাসরি পুলিশ সদর দফতরে ছুটে যান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা।
চিকিৎসকরা কী বলছেন? জিবিপি হাসপাতালের জেনারেল মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক প্রদীপ ভৌমিক জানান, হাসপাতালে আনার সময় ডিজিপির পালস, রক্তচাপ বা শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুই সচল ছিল না। দীর্ঘ ৪৮ মিনিট ধরে সিপিআর (CPR) দেওয়ার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য সচিব কিরণ দিনকররাও গিত্তে জরুরি বিভাগে উপস্থিত থেকে চিকিৎসার তদারকি করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কে এই অনুরাগ ধনখড়? ১৯৯৪ ব্যাচের এই দুঁদে আইপিএস আধিকারিক ২০২৫ সালে ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্ত করেছেন। নীরব মোদী মামলায় সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা মামলার বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতো একজন শীর্ষ পুলিশকর্তার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গোটা রাজ্য প্রশাসনে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।