দিল্লিতে ধুন্ধুমার! ‘আরশোলা’দের চাপে পিছু হটল কেন্দ্র, অনশন ভাঙলেন দিপকে

দিল্লির রাজপথে তখন তুমুল উত্তেজনা। একদিকে আন্দোলনকারীদের মুহুর্মুহু স্লোগান, অন্যদিকে কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় একাকার গোটা এলাকা। ঠিক সেই মুহূর্তেই এল বড় খবর। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আন্দোলনের পর অবশেষে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘আরশোলা’দের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হল কেন্দ্র। সরকারের এই বার্তার পরেই দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন ভাঙলেন সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
খবরের একনজরে:
- দীর্ঘ আন্দোলনের পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) সঙ্গে বৈঠকে রাজি কেন্দ্র।
- জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সিজেপি প্রতিনিধিরা।
- সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে আড়াই দিন পর অনশন ভাঙলেন অভিজিৎ দিপকে।
- সংসদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি, ফাটানো হলো কাঁদানে গ্যাসের শেল।
কীভাবে মিটল জট? সিজেপি-র মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, সোমবার সকালেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁদের কাছে আলোচনার প্রস্তাব আসে। জট কাটাতে আসরে নামেন খোদ বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিজেপি-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।
অনশন প্রত্যাহার আন্দোলনকারীদের গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভরতি করে দিল্লি পুলিশ। এরপরই অনশনে বসেন অভিজিৎ দিপকে। টানা আড়াই দিন অন্ন-জল ত্যাগের পর সরকারের আশ্বাসে সোমবার তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।
পাশাপাশি, টানা ২৩ দিন ধরে অনশনে বসা ‘আইসা’ (AISA)-র তিন ছাত্রনেতা— নেহা, মনীশ এবং আমিনও এদিন অনশন ভাঙেন। স্বরাজ ইন্ডিয়ার নেতা যোগেন্দ্র যাদব তাঁদের ফলের রস খাইয়ে অনশন ভাঙান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রমুখ। শাবানা আজমি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, আজকের যুবসমাজই দেশকে সঠিক দিশা দেখাচ্ছে।
সংসদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি একদিকে যখন আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তখন সিজেপি-র ‘সংসদ মার্চ’ ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে রাজধানী। যন্তর মন্তর থেকে সেন্ট্রাল দিল্লির দিকে এগোনোর সময় শাস্ত্রী ভবনের কাছে বিক্ষোভকারীদের আটকায় পুলিশ। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় একাধিক মেট্রো স্টেশনের গেট।
আপাতত গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। কেন্দ্রের সঙ্গে এই বৈঠকের পর আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা দেশের।