‘প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না…!’ মমতার একুশে জুলাই নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন ফিরহাদ

দীর্ঘদিনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ জুলাই পালনের ধরন নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর আক্ষেপ, শহিদ দিবস ধীরে ধীরে উদ্যাপনে পরিণত হয়েছিল, কিন্তু সেই সময় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার মতো ‘সাহস’ তাঁদের ছিল না!
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন ফিরহাদ। প্রতি বছর একুশে জুলাইয়ের মূল মঞ্চে নেত্রীর পাশেই দেখা যেত তাঁকে। কিন্তু ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পালাবদল ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিভাজনের পর সমীকরণ অনেকটাই বদলেছে। বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা ফিরহাদ এবার একুশে জুলাই নিয়ে মুখ খুলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন।
ঠিক কী বলেছেন ফিরহাদ?
- উদ্যাপন নিয়ে আপত্তি: ফিরহাদের দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহিদ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে গিয়েছিল। এটি ধীরে ধীরে একটি ‘উদ্যাপনের’ রূপ নিয়েছিল। পদ্ধতিগতভাবে এটা মেনে নিতে না পারলেও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় তাঁদের অংশ নিতে হত।
- ছিল না সাহস: তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিষয়ে দলের অন্দরে অনেকেরই আপত্তি ছিল, কিন্তু প্রকাশ্যে মুখ খোলার মতো সাহস কারও ছিল না।
- শুভেন্দু-প্রসঙ্গ: স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। জানান, যুব তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীন ব্রিগেডের একটি সভায় শুভেন্দুর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়ার ঘটনা আজও তাঁকে ব্যথিত করে।
‘সেদিন আমিও শহিদ হতে পারতাম…’ শুধুমাত্র রাজনৈতিক আক্ষেপ নয়, ২১ জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনের রোমহর্ষক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ফিরহাদ। তিনি জানান, সেদিন মেয়ো রোডের মুখে তাঁর চোখের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন ২-৩ জন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তিনিও গুলির মুখে পড়তে পারতেন।
ফিরহাদের কথায়, “সেদিন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হঠাৎ ধাক্কা দিয়ে আমাকে ক্রীড়া সাংবাদিকদের ক্লাবের ভিতরে ঢুকিয়ে দেন। ওই মানুষটির তৎপরতা এবং ঈশ্বরের কৃপাতেই আমি আজও বেঁচে আছি।”
তৃণমূলের বিভাজনের পর প্রথম ২১ জুলাইকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এমনিতেই চরমে। তার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে একুশ পালনের ধরন নিয়ে ফিরহাদ হাকিমের এই প্রকাশ্য সমালোচনা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে তরজা আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।