‘টাকা না দিলে বিয়ে কর, নয়তো সারারাত নাচ!’ ২ নৃত্যশিল্পীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া সেই টিটি-কে সরাল রেল

বনগাঁ: ট্রেনের ভেন্ডার কামরায় ওঠার অপরাধ! আর তার ‘শাস্তি’ হিসেবে দুই তরুণী নৃত্যশিল্পীকে চরম অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠল রেলের এক টিকিট পরীক্ষক (টিটি)-এর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল বনগাঁয়। অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত ওই টিকিট পরীক্ষককে ইতিমধ্যেই তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
- ঘটনার সূত্রপাত: শুক্রবার দুপুরে গোবরডাঙার বাসিন্দা ঋত্বিকা সাহা ও অশ্রী সাহা রানাঘাটে নাচের স্কুলে যাওয়ার জন্য ট্রেনে ওঠেন। ভুলবশত তাঁরা ভেন্ডার কামরায় উঠে পড়েন।
- জরিমানা ও হেনস্থা: বনগাঁ স্টেশনে অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষক তাঁদের আটকে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাঁদের একটি নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে গিয়ে চরম মানসিক হেনস্থা করা হয়।
- অশ্লীল প্রস্তাব: অভিযোগকারী তরুণীদের দাবি, ওই টিটি তাঁদের বলেন, টাকা না দিলে তাঁদের একজনকে তাঁকে বিয়ে করতে হবে, আর অপরজনকে সারারাত নাচতে হবে! এমনকি তরুণীদের মা ও নাচের শিক্ষিকাকে ফোন করেও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।
- প্রমাণ লোপাট: তরুণীরা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করলেও অভিযুক্ত টিটি জোর করে তা ডিলিট করান।
রেলের পদক্ষেপ ও আন্দোলনকারীদের দাবি: শনিবার বনগাঁ জিআরপি থানায় এফআইআর দায়ের করেন ওই দুই তরুণী। এরপরই থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক নৃত্যশিল্পী। একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও মারফত রবিবার বিষয়টি জানতে পারে পূর্ব রেল। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, এই ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত কর্মীকে সরিয়ে দিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, সোমবার অভিযোগকারীদের আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার কথা। শুধু বিভাগীয় শাস্তি নয়, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। টিকিট পরীক্ষকদের অফিসে সিসিটিভি বসানোর দাবিও উঠেছে। সুবিচার না পেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।