‘উসকানি ছাড়াই চলেছিল গুলি!’ ২১ জুলাইয়ের গোপন রিপোর্ট বিধানসভায় ফাঁস শুভেন্দুর

দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা ২১ জুলাইয়ের তদন্ত রিপোর্ট এবার প্রকাশ্যে! ৩৩তম শহিদ দিবসের ঠিক আগের বিকেলে, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জাস্টিস চ্যাটার্জি কমিশনের বিস্ফোরক রিপোর্ট পড়ে শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নিশানায় সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত।
কী রয়েছে কমিশনের এই বিস্ফোরক রিপোর্টে?
- অপ্রয়োজনীয় গুলিচালনা: রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিচালনা ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় এবং উসকানিবিহীন। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কোনও যথার্থতা প্রমাণ হয়নি।
- কাল্পনিক আশঙ্কা: রেড রোড, মেয়ো রোড বা ডোরিনা ক্রসিং—যেখানে যেখানে গুলি চলেছিল, তা মহাকরণ থেকে বেশ দূরে। বিক্ষোভ মহাকরণে আছড়ে পড়ার আশঙ্কাটি ছিল নিতান্তই ‘কাল্পনিক’।
- মণীশ গুপ্তের নির্দেশ: রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত।
মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এত বছর ধরে ২১ জুলাইয়ের আসল সত্যিটা জানতে পারেনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত কমিশন গঠন করলেও, তার রিপোর্ট কখনও প্রকাশ্যে আনেননি।
“যিনি নিজেকে সবচেয়ে বড় আন্দোলনকারী বলেন, সেই তৎকালীন যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কখনও তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। হয়ত বারণ করা ছিল!” — বিধানসভায় মন্তব্য শুভেন্দুর।
ফাইল গায়েবের অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, তদন্তে মণীশ গুপ্ত-সহ ৪৪ জনকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হলেও পরবর্তীকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ওই ফাইলগুলো প্রকাশ্যে এলে তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী (মণীশ গুপ্ত) ফেঁসে যেতেন। মূলত তাঁকে আড়াল করতেই মমতার সরকার এই তদন্ত নিয়ে আর কোনও তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।