‘৫ ওয়াটের বাল্ব নিজেকে হ্যালোজেন ভাবছে!’ একুশের মঞ্চে ঋতব্রতকে তুলোধোনা অভিষেকের, পালটা তোপ মদনের

‘৫ ওয়াটের বাল্ব নিজেকে হ্যালোজেন ভাবছে!’ একুশের মঞ্চে ঋতব্রতকে তুলোধোনা অভিষেকের, পালটা তোপ মদনের

বাংলা দেখল এক নজিরবিহীন একুশে জুলাই! শহিদ দিবসের মঞ্চই এবার পরিণত হল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের রণক্ষেত্রে। কালীঘাট বনাম ঋতব্রত শিবিরের প্রকাশ্য তরজায় বঙ্গ রাজনীতির পারদ এখন চরমে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁচাছোলা আক্রমণ, অন্যদিকে মদন মিত্রের পালটা চরম হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত শাসকদল।

‘৫ ওয়াটের বাল্ব নিজেকে হ্যালোজেন ভাবছে’

এদিনের সভা থেকে দলত্যাগী ও বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চরম কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “৫ ওয়াটের বাল্ব এখন নিজেকে হ্যালোজেন ভাবছে! আরে, বিদ্যুৎ তো সঞ্চার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁর রাজনীতিকে সামনে রেখে আপনাদের এই রাজনৈতিক পরিচয়।”

বিশ্বাসঘাতকদের ফেরার পথ বন্ধ করার আর্জি

মঞ্চ থেকে দলনেত্রীর কাছে অভিষেকের স্পষ্ট আবেদন, যাঁরা দলের দুর্দিনে সঙ্গ ছেড়েছেন, তাঁদের যেন কোনোভাবেই আর ফেরানো না হয়। তাঁর কথায়, “কেউ নিজের মাকে ত্যাগ করলে সৃষ্টিকর্তাও তাকে ক্ষমা করেন না। নেত্রীকে অনুরোধ করব, যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের একটাকেও দয়া করে আগামী দিনে দলে ফেরত নেবেন না।”

এজেন্সি নিয়ে কড়া চ্যালেঞ্জ

কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ ও দলের ভাঙন প্রসঙ্গেও এদিন সুর চড়ান অভিষেক। ইডি, সিবিআই থেকে শুরু করে সিআইডি বা এসটিএফ— কাউকেই যে তিনি ভয় পান না, তা স্পষ্ট করে দেন। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “গলা যদি কেটেও দেন, যেদিন দেহত্যাগ করব, মৃতদেহটা শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার আগে কান পেতে শুনলে সেখান থেকেও ‘জয় বাংলা’ আর ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ শোনা যাবে।”

‘মমতা এখন গান্ধারী’, পালটা তোপ মদন মিত্রের

অভিষেকের এই ঝাঁঝালো আক্রমণের জবাব দিতে একটুও দেরি করেনি ঋতব্রত শিবির। প্রবীণ নেতা মদন মিত্র একযোগে অভিষেক ও মমতার বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্যগুলি হল:

  • চার্টার্ড বিমান বিতর্ক: “দলের সাধারণ কর্মীদের টাকায় চার্টার্ড বিমান কিনেছেন অভিষেক।”
  • মমতাকে কটাক্ষ: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দলে গান্ধারীর ভূমিকা পালন করছেন।”
  • ক্ষমা চাওয়ার চ্যালেঞ্জ: “ক্ষমতা থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মঞ্চে এসে ক্ষমা চান। আমরা আমাদের উত্তরীয় ওঁর পায়ের নিচে দিয়ে দেব।”

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে এই পালটাপালটি আক্রমণ এবং নজিরবিহীন সংঘাত তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটলকে যে আরও চওড়া করল, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে একেবারে স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *