হাসপাতাল না জেলখানা? সোনম ওয়াংচুককে আটকে রাখার অভিযোগে সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি চিকিৎসকদের!

হাসপাতাল না জেলখানা? সোনম ওয়াংচুককে আটকে রাখার অভিযোগে সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি চিকিৎসকদের!

জলবায়ু ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে কি হাসপাতালে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে? দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের (Safdarjung Hospital) পরিস্থিতি নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (RDA)। হাসপাতালকে ‘বন্দিশালা’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে সরাসরি দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার পৃষ্ঠার চিঠি পাঠাল এই চিকিৎসক সংগঠন।

চিঠির মূল অভিযোগ ও দাবিগুলি কী কী?

  • জোর করে আটকে রাখার অভিযোগ: চিকিৎসকদের কড়া অভিযোগ, সোনম ওয়াংচুক মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সক্ষম একজন রোগী। তা সত্ত্বেও তাঁকে নিজের ইচ্ছায় হাসপাতাল ছাড়তে বা ‘লামা’ (LAMA – Leave Against Medical Advice) নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটি রোগীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
  • হাসপাতাল বন্দিশালা নয়: চিকিৎসকরা সাফ জানিয়েছেন, সুস্পষ্ট আইনি নির্দেশ ছাড়া কোনো হাসপাতালকে রাজনৈতিক স্বার্থে জেলখানা হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের পরিপন্থী।
  • কড়া নিরাপত্তায় ব্যাহত চিকিৎসা: গত ১৮ জুলাই পুলিশ সোনমকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে সেখানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। এর জেরে সাধারণ রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা।
  • তদন্তের আর্জি: চিঠিতে যন্তরমন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া এবং লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষক-পড়ুয়াদের ভয় দেখানোর অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে আরডিএ।

কেন এই চিঠি? চিকিৎসক সংগঠনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই চিঠি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতে কোনো অ-চিকিৎসাগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয়, সেই বিষয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। অন্যথায় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *