‘কোনও গোপন সমঝোতা করিনি!’ হাসপাতালের বিছানা থেকেই সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন সোনম ওয়াংচুক

‘কোনও গোপন সমঝোতা করিনি!’ হাসপাতালের বিছানা থেকেই সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন সোনম ওয়াংচুক

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে একটানা ২৬ দিন ধরে সুদীর্ঘ আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে অনশন প্রত্যাহার করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। কিন্তু আন্দোলন তুলে নেওয়ার পরই তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

সরকারের সঙ্গে কোনো ‘গোপন সমঝোতা’ করেই তিনি মাঝপথে আন্দোলন থামিয়ে দিয়েছেন—এমন নানা গুঞ্জন ও কটাক্ষ ধেয়ে আসছে বিভিন্ন দিক থেকে। এমনকি তাঁকে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক ভাষায় আক্রমণ করতেও পিছপা হচ্ছেন না অনেকে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই সমালোচকদের উদ্দেশে চরম ক্ষোভ ও অভিমান উগড়ে দিয়েছেন সোনম।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনমের সাফাই ও ভিডিও বার্তা

চারিপাশে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি ভিডিওতে বলেন, “টানা ২৬ দিন ধরে অনশন করার পরেও কি আজ আমাকে নতুন করে আমার সততা ও আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে?”

তাঁর মতে, এই ভিত্তিহীন ও একপেশে অভিযোগ তাঁর গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সমাজসেবা ও ত্যাগের আন্দোলনকে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে খাটো করছে। তাড়াহুড়ো করে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে না পৌঁছে, তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা ২২ মিনিটের সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখার জন্য সকলকে বিনীত অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি এই বার্তাটি যাতে দেশের আরও মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই আর্জিও রেখেছেন তিনি।

কী বলছেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো?

স্বামীর এই শারীরিক ও মানসিক সংকটের মুহূর্তে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুলেছেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। সাধারণ মানুষের কাছে এক আবেগঘন আবেদনে তিনি স্পষ্ট জানান, তাড়াহুড়ো করে তাঁর স্বামীর কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে যেন ভুল বিচার করা না হয়। ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে তিনি উদ্বেগের সুরে জানান, একটানা ২৬ দিনের কঠোর অনশনে সোনমের শরীরের প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে গেছে এবং বর্তমানে তিনি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউ (ICU)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কেন শেষ পর্যন্ত অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক?

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানে সরকারের তরফ থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক আশ্বাসের কথা জানানো হয়। সেই আশ্বাসের পরেই অনশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়াংচুক।

সরকারের তরফ থেকে তাঁকে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল:

  • আইনি সুরক্ষা: শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে অতীতে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ বা দমনপীড়নের বিষয়টি সহানুভূতিশীলভাবে পুনর্বিবেচনা করা হবে।
  • সংসদে আলোচনা: আগামী দিনে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক ও আমূল সংস্কার নিয়ে সংসদের অন্দরে বিশেষ আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে।
  • ক্ষতিপূরণ: নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সরকার আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবে।

সরকারের এই আশ্বাসের ওপর ভরসা রেখেই তিনি অনশন ভঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশের সন্দেহ এবং তীব্র কটাক্ষের জেরে সোনমের এই আন্দোলন সমাপ্তি পর্ব বর্তমানে যথেষ্ট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *