‘আন্দোলনকারীরা কি আদৌ ছাত্র?’ রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের, মন্ত্রীর ইস্তফা নিয়ে বড় দাবি

‘আন্দোলনকারীরা কি আদৌ ছাত্র?’ রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের, মন্ত্রীর ইস্তফা নিয়ে বড় দাবি

ককরোচ জনতা পার্টির লাগাতার আন্দোলনের মুখে অবশেষে পিছু হঠল কেন্দ্র। শনিবারই পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, আর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই এই রাজনৈতিক পালাবদল এবং দেশজুড়ে চলা নিট (NEET) আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

রবিবার নিউটাউনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কেউ এই ঘটনাকে রাহুল গান্ধীর জয় হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, আবার কেউ এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করছেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি আগে ঠিক করে নিক। সরকার সবসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য অন্য কিছু ছিল। এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই মনে করেছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত, এবং সেইমতোই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে বদ্ধপরিকর।”

এর পরেই মন্ত্রিসভার রদবদলের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “কাউকে না কাউকে তো এই পরিস্থিতির দায় ও দায়িত্ব নিতেই হতো। খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ বা বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সবকিছুর সুরাহা হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা অচল করে যে অস্থির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হয়েছে। মানুষ এখন এই কুচক্রীদের আসল চেরাগ চিনতে পারছে।”

এরপর সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন তোলেন, “নিট-এর আন্দোলনে যারা রাস্তায় নেমেছিল, তারা কি আদৌ ছাত্র? যারা সামনে ছিল, তারা কেউ ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি নয়। রাহুল গান্ধী বা অন্য যে নেতারা সেখানে ভাষণ দিয়েছেন, তাঁরাও কেউ ছাত্র নন। এদের মধ্যে আসল ছাত্র কে? আসলে ছাত্রদের আড়ালে কিছু লোক এসে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরি করেছে। কৃষক আন্দোলন বা মহিলা আন্দোলন— সবক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা যায়। আন্দোলনের পেছনের কুশীলবরা একই থাকে, শুধু সামনের ব্যানারটা বদলে যায়। এই ধরনের রাজনীতি দেশের কোনো উপকারে লাগে না এবং দেশের সাধারণ মানুষও এদের সমর্থন করে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *