নিট আন্দোলনে মিশেছিল গ্যাংস্টার ও দাগি অপরাধীরা! দিল্লি পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন চড়ছে। এর মধ্যেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এক দাবি সামনে এনেছে দিল্লি পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, সেই প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নিয়েছিল বহু দাগি অপরাধী ও গ্যাংস্টার। এমনকি তাদের অনেকের কাছে ধারালো অস্ত্রও ছিল, যা দিয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
সংসদ অভিযান ও পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ
নিট কেলেঙ্কারি এবং সেসময়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত সোমবার দিল্লিতে একটি সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল CJP। তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ বা মিছিলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উপেক্ষা করেই মিছিল নিয়ে এগোতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
রাজধানীতে ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও বড় জমায়েত হওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। মিছিল রুখতে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে তা জোর করে ভাঙার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে, যার জেরে গোটা চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এই আন্দোলনে বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও সামিল হয়েছিলেন।
ফেস রেকগনিশন সিস্টেমে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় উচ্চ প্রযুক্তির ‘ফেস রেকগনিশন সিস্টেম’ (FRS) ব্যবহার করা হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে গত তিন দিনে আড়াই হাজারের বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অতীতে একাধিক গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, শুধু বিক্ষোভ দেখানো নয়, মিছিলে ঢুকে পড়া ওই অপরাধীদের কাছে ছুরি ও মারাত্মক অস্ত্র ছিল, যা পুলিশকর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে ব্যবহার করা হয়। এই সামগ্রিক সহিংসতার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৫টি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
অবশেষে দীর্ঘ ৩৭ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন এবং তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে গত শনিবার নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠিয়ে দেন।