ধর্মতলার হিংসায় জামাত ও মৌলবাদীদের হাত! বিদেশি চক্রান্তের বড় ইঙ্গিত দিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

ধর্মতলার হিংসায় জামাত ও মৌলবাদীদের হাত! বিদেশি চক্রান্তের বড় ইঙ্গিত দিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

কলকাতার ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হিংসা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রাজ্য সরকার। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন, এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনও প্রকৃত শিক্ষার্থী নন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, এরা আসলে “জামাত এবং মৌলবাদী” গোষ্ঠীর সদস্য, যাদের মূল উদ্দেশ্য শহরজুড়ে অশান্তি তৈরি করে দেশকে দুর্বল করা।

মুখ্যমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, আন্দোলনের আড়ালে এই হিংসাত্মক চক্রান্তের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, সরকার সংবাদমাধ্যমকে “গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ” হিসেবে দেখে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে ক্ষোভ থেকেই এই ছক?

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যে নতুন সরকারের নেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর ক্ষোভ থেকেই এই নাশকতার ছক কষা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে অননুমোদিত খারিজি মাদ্রাসাগুলির রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষা, ওবিসি প্রশংসাপত্র সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা, গবাদি পশু হত্যা সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।

পাশাপাশি, মিছিলে জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবির বিকৃতি— এই সমস্ত ঘটনাই যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। পূর্ববর্তী সরকারের জমানায় পুরভোট, পঞ্চায়েত নির্বাচন কিংবা আর জি কর আন্দোলনের সময় আক্রান্ত সাংবাদিকরা সুবিচার না পেলেও বর্তমান সরকার যে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ হাঁটছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। ধর্মতলার ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের দেখতে তিনি নিজে এসএসকেএম হাসপাতালে যান এবং তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত এফআইআর ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে বলে জানান।

১৪ জন গ্রেফতার, চলছে তল্লাশি

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের প্রতিবাদে বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠন ও ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র যৌথ মিছিলে ঘটে যাওয়া এই হিংসার ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেই তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ধৃতদের সকলের বিরুদ্ধে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ (গুন্ডা দমন আইন) ধারায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা সহ মোট ৭টি এফআইআর রুজু হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জন অভিযুক্তের খোঁজে বর্তমানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *