‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি বললে হাসপাতাল হয়ে ফিরতে হবে!’ দেশবিরোধীদের নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের চরম হুঙ্কার

‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি বললে হাসপাতাল হয়ে ফিরতে হবে!’ দেশবিরোধীদের নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের চরম হুঙ্কার

মিছিল বা জমায়েতে দেশবিরোধী এবং ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুললে এবার আর কাউকে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না! সম্প্রতি একটি মিছিল থেকে ওঠা বিতর্কিত স্লোগান প্রসঙ্গে সরাসরি রাজ্য প্রশাসন ও বিরোধীদের একহাত নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই ধরনের স্লোগান দিলে কেউ আর ‘সুস্থ শরীরে’ বাড়ি ফিরতে পারবে না।

‘এখন বাবরের সরকার নয়, শ্যামাপ্রসাদের সরকার!’

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা কিছু বিতর্কিত স্লোগান নিয়ে নিজের চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দেশে দেশবিরোধী শক্তিগুলি নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার অপচেষ্টা করছে এবং এর নেপথ্যে রয়েছে বামেদের উসকানি। তোপ দেগে তিনি বলেন, “যারা অতীতে ভারতবর্ষকে টুকরো করতে চেয়েছিল, তারা আজ পেছনের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছে। তাদের এটা বোঝা উচিত যে, এটা বাবরের সরকার নয়, এটা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সরকার।”

পুলিশকে কঠোর বার্তা ও মারধরের হুমকি

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, সাধারণ মানবাধিকারের কথা ভেবে পুলিশ গুলি না চালালেও, দেশবিরোধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া চলবে না। পুলিশ প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়ে তাঁর সাফ কথা, “ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে’ স্লোগান দিলে অপরাধীরা যেন অন্তত হাসপাতাল হয়ে, প্লাস্টার করিয়ে তবেই বাড়ি ফিরতে পারে, পুলিশকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।”

পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে, পুলিশ যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাধারণ মানুষও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জনতা জেগে উঠলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া

বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই আগ্রাসী ও বিতর্কিত মন্তব্যের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। শমীকের এই মন্তব্যকে তীব্র আক্রমণ করে পাল্টা তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারির বিরোধিতা করে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ যদি সব কাজই করে দেয়, তবে পুলিশ আছে কী করতে?” তাঁর মতে, উসকানিমূলক হিংসার আশ্রয় না নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পথেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, ‘আজাদি’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শাসক ও বিরোধী শিবিরের লড়াই চরমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *