NEET আন্দোলন: নাবালকদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, FIR-এ কড়া পদক্ষেপ নয়

NEET আন্দোলন: নাবালকদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, FIR-এ কড়া পদক্ষেপ নয়

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিজিপি-র (CJP) NEET আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, দেশজুড়ে আন্দোলনের সময় গ্রেফতার বা আটক হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী সমস্ত ছাত্রছাত্রী এবং যাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ ও নোটিস

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সিজিপি-র নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কোনও এফআইআর-এ আপাতত কোনও দণ্ডমূলক বা জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, কেন্দ্র-সহ সাতটি রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। কোন রাজ্যে কী পরিস্থিতি, অশান্তির স্বরূপ এবং কার কী ভূমিকা ছিল— তা খতিয়ে দেখতে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গও এই রাজ্যগুলির তালিকায় রয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা ও গুরুতর অভিযোগ

এদিনের শুনানিতে আদালত পেলেট গান ও ইলেকট্রিক ব্যাটন ব্যবহার, নাবালকদের আটক এবং সাদা পোশাকে পুলিশের হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করে। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই সমস্ত অভিযোগের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণন আদালতকে জানান, একটি ভিডিওতে খোদ এক এএসআইকে গাড়ির কাচ ভাঙতে দেখা গেছে। ইউনিফর্ম পরা বহু পুলিশকর্মীর গায়ে নেমপ্লেট না থাকার প্রসঙ্গও আদালতে ওঠে। অন্যদিকে, বিহারে হিংসার মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে জানান আইনজীবী শাদান ফরাসত। তিনি জানান, বহু নাবালক ও ১৩ বছরের এক শিশুও এখনও আটক রয়েছে।

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, আবেদনগুলিতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে— যার মধ্যে পেলেট গানের আঘাতে ১৯ বছরের এক তরুণের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা, আইনজীবীদের ওপর হামলা, সাংবাদিককে মারধর এবং সাদা পোশাকে পুলিশের হিংসার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, পুলিশকর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম কেন ছিল না? তিনি বলেন, “আক্রমণাত্মক সরঞ্জামের চেয়ে নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম অনেক বেশি জরুরি।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সংবিধান সুরক্ষা দেয়, তবে মাঝে মাঝে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি এসে অশান্তি তৈরি করে। পরিশেষে, এই সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি বা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *