নিট বিক্ষোভ কাণ্ডে বড় স্বস্তি: ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে জামিন পেলেন ধৃত ১৬ জন আন্দোলনকারী

নিট বিক্ষোভ কাণ্ডে বড় স্বস্তি: ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে জামিন পেলেন ধৃত ১৬ জন আন্দোলনকারী

নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্মতলার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১৬ জন আন্দোলনকারীকে জামিন দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে, আদালতের প্রাথমিক নির্দেশে জেল হেফাজত হলেও, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা সামনে আসতেই সম্পূর্ণ বদলে যায় আদালতের পরিস্থিতি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে বিচারক ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও রকম কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা জবরদস্তি করা হবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষার নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম নির্দেশ এবং সিজেপি-র চাপ নিট দুর্নীতির প্রতিবাদের জেরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সোমবারই কেন্দ্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার এবং ধৃতদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং; সেই প্রতিশ্রুতিই কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেয় সিজেপি।

সিজেপি-র এই তীব্র চাপের পরেই নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন রাজ্য। বিহার সরকার সবার আগে ধৃতদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরেই আসাম সরকারও আন্দোলন সংক্রান্ত মামলা তুলে নেওয়ার কথা জানায়। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, আঠারো বছরের কম বয়সি এবং অপরাধের রেকর্ড নেই এমন সমস্ত আটক বা ধৃত ছাত্রছাত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে এই আন্দোলন সম্পর্কিত এফআইআরগুলিতে কোনও রকম জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলেও জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।

কলকাতার পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান গত শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়ায়। সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীও আক্রান্ত হন। এই ঘটনায় পুলিশ মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তাদের তোলার পর পুলিশের আর্জি অনুযায়ী ৩০ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজত মঞ্জুর হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং কেন্দ্রের নির্দেশিকা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের স্বস্তি দেওয়ার পথেই হাঁটে।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, ধর্মতলার মিছিলে সুপরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি ছড়ানো হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে এমন ৭০ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা সিজেপি-র কোনও সম্পর্ক নেই। বহিরাগত এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হলেও, কেন্দ্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত মেনে প্রকৃত আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মামলার ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনায় দায়ের হওয়া পৃথক এফআইআর-এর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *