ফের ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা: কড়া অ্যাকশনে ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা!

সাময়িক শান্তির অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ফের বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ বিমান হামলা (এয়ারস্ট্রাইক) চালিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই সামরিক অভিযানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি লাগাতার ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। তারই কঠোর জবাব দিতে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বের টুইটার) সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের হামলার চেষ্টার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে ইরান। যদিও মার্কিন সেনার দাবি, মাঝপথেই সেই সমস্ত মিসাইল প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো বড় ক্ষতি হয়নি। তবে এই ঔদ্ধত্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জন্য ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে এবং তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
শুধু তাই নয়, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধেও যৌথ অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা ও সৌদি আরব। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর দাবি অনুযায়ী, পূর্ব ইরাকে অবস্থিত অস্ত্রভাণ্ডার ও লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলিতে চালানো এই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আমেরিকার অভিযোগ, গত তিন দিনে মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামোর ওপর ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার নেপথ্যে ছিল ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার এই নতুন বিমান হামলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে চলছে ভয়ংকর সামরিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।