রক্তস্নাত পিওকে: সেনার বর্বরোচিত তাণ্ডবে নিহত বহু, পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাওয়ালকোট সহ পুরো পাকিস্তান জুড়েই চরম নৈরাজ্য ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও পুলিশের বর্বরোচিত অভিযানে পিওকে অঞ্চলে রক্তগঙ্গা বইছে। গত ৩৬ ঘণ্টাতেই সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক। সবমিলিয়ে চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসেই এই অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে গেছে।
একইসঙ্গে খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান ও পাঞ্জাব প্রদেশে লাগাতার সন্ত্রাসী হামলায় চরম দিশেহারা পাক নিরাপত্তা বাহিনী।
রেকর্ড হিংসা ও সেনার বিপুল ক্ষয়ক্ষতি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তান জুড়ে ৭৫৫টিরও বেশি সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সার্বিক চিত্র:
- আমজনতার মৃত্যু: ৬০০-র বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত।
- নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষতি: ৮২০ জনেরও বেশি সেনাকর্মী ও পুলিশ নিহত।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাতের মাত্রা না কমলে বছরের শেষ নাগাদ কেবল পাক নিরাপত্তা বাহিনীর নিহতের সংখ্যাই ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পিওকে নিয়ে ভারতের কড়া অবস্থান পিওকে-তে সাধারণ মানুষের ওপর চলা এই অকথ্য অত্যাচারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল স্পষ্টভাবে জানান, “ভারতের অবস্থান সর্বজনবিদিত ও সুনির্দিষ্ট। পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা অঞ্চল সহ সমগ্র জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
তিনি আরও যোগ করেন, পিওকে-র বর্তমান গণবিক্ষোভ পাকিস্তানের বহু বছরের অর্থনৈতিক শোষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিষ্ঠুর প্রশাসনিক দমনপীড়নেরই অনিবার্য ফল।